হার্দিকের গ্লাভস বদল নিয়ে বিতর্কআইপিএল-এ আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অন্যায় সুবিধা পেয়েছেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ক্যাপ্টেন হার্দিক পান্ডিয়া। এমনটাই দাবি নেটিজেনদের একাংশের। অথচ ট্রিস্টান স্টারসের একই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়। ঘটনাটা ঘটেছে রবিবার মুম্বই ইন্ডিয়ান্স বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের হাইভোলটেজ ম্যাচে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (MI) বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর (RCB) ম্যাচে হার্দিক পান্ডিয়াকে দু'বার গ্লাভস বদলাতে দেখা যায়। এই ঘটনাটি ওভারের মাঝেই করা হয়েছিল, ওভার শেষ হওয়ার পরে নয়। তবে, আম্পায়াররা এতে আপত্তি করেননি। সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলে এবং কোনো বিতর্ক ছাড়াই ম্যাচটা অব্যাহত থাকে।
কিন্তু ঠিক একদিন আগেই, দিল্লি ক্যাপিটালস (DC) বনাম চেন্নাই সুপার কিংস (CSK) ম্যাচে এর বিপরীত পরিস্থিতি ঘটেছিল। দিল্লি ক্যাপিটালসের ব্যাটসম্যান ট্রিস্টান স্টাসে অভিযোগ করেন যে ঘামের কারণে তাঁর গ্রিপে সমস্যা হচ্ছে এবং ওভারের মাঝেই গ্লাভস বদলানোর অনুমতি চান। নীতীশ রানা আম্পায়ারের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। তবে, আম্পায়াররা নিয়ম দেখিয়ে গ্লাভস বদল বাতিল করে দেন। এ সময় নীতীশ রানা আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মাঠেই তর্কাতর্কি শুরু হয়। বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে নীতীশকে তাঁর ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ জরিমানা করা হয় এবং একটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়।
নিয়ম অনুযায়ী, খেলোয়াড়রা ওভারের মাঝে বা বিরতির সময় গ্রান্ডস বদলাতে পারেন। ওভারের মাঝখানে গ্রান্ডস বদলানো কেবল তখনই সম্ভব, যদি সরঞ্জাম বিকল হয় বা কোনো নিরাপত্তাজনিত সমস্যা থাকে। তবে, বিতর্কের আসল কারণ সময় নয়, বরং দুটি ঘটনার মধ্যে সময়ের ব্যবধান। ট্রিস্টান স্টাবস এবং নীতীশ রানার ঘটনাটি ইতিমধ্যেই পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছিল। এখন, ঠিক পরের ম্যাচেই হার্দিককে খেলার অনুমতি দেওয়ায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
অনেক ভক্ত এ টিকে 'দ্বিচারিতা' হিসেবে দেখছেন। এই পুরো ঘটনাটি এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আইপিএল ২০২৬-এর প্রতিটি ছোট সিদ্ধান্ত কড়া নজরদারির মধ্যে থাকবে। প্রতিটি পরিস্থিতিতে ধারাবাহিকভাবে এবং স্পষ্টভাবে নিয়ম প্রয়োগ করার জন্য আম্পায়ারদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে। আপাতত, এই বিষয়টি শুধু গ্লাভস বদলানো নিয়ে নয়; এটি ইতিমধ্যেই আইপিএলে নিয়মের ব্যাখ্যা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান প্রশ্নের একটি ইঙ্গিত।