
Pakistan T20 World Cup: বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর অজুহাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB)। কিন্তু বাস্তবে সেই হুমকি যে কাগজেই সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন স্পষ্ট। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তান দল বিশ্বকাপ খেলতে শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে রওনা দিচ্ছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হওয়ার পর, প্রকাশ্যে বাংলাদেশের প্রতি সহমর্মিতা দেখাতে শুরু করে পাকিস্তান। এমনকি শোনা যায়, বাংলাদেশ ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি নিজেরাও নাকি টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবছিল তারা। কিন্তু এই সবই যে কৌশলী কথার লড়াই ছিল, তার কোনও লিখিত বা সরকারি প্রমাণ সামনে আসেনি।
এর মধ্যেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তারা বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে না। তাতেই অনেকটাই স্বস্তিতে পাকিস্তান। কারণ, বয়কটের মতো চরম সিদ্ধান্ত নিলে আর্থিক ও কূটনৈতিক। দু’দিক থেকেই বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হতো পিসিবিকে।
সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, পাকিস্তান দল অনেক আগেই শ্রীলঙ্কা সফরের প্রস্তুতি সেরে ফেলেছিল। ২ ফেব্রুয়ারি সকালে কলম্বোর উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সমস্ত ব্যবস্থা আগেই চূড়ান্ত ছিল। বিশ্বকাপ বয়কটের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করার পিছনেও এই বাস্তব কারণই সবচেয়ে বড়।
ক্রিকেট দুনিয়ায় রাজনীতির মতোই আত্মরক্ষা সবার আগে। এমনটাই মত ক্রীড়া বিশ্লেষকদের। প্রবীণ সাংবাদিক শারদা উগ্রা এক পডকাস্টে বলেন, পাকিস্তানের বিশ্বকাপ খেলা বা না খেলা শেষ পর্যন্ত সরকারের সিদ্ধান্ত হলেও, বাস্তবে সব সুতো ছিল পিসিবি চেয়ারম্যান ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভির হাতেই।
মহসিন নকভি ভালো করেই জানেন, এই সময় আইসিসির সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করা মানে পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে ফেলা। তাই বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো কখনওই বাস্তবসম্মত বিকল্প ছিল না।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ২০২৫ সালে হওয়া বিসিসিআই-পিসিবি-আইসিসি ত্রিপাক্ষিক চুক্তি। এই চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সাল পর্যন্ত সমস্ত আইসিসি ইভেন্টে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সব ম্যাচ, এমনকি ফাইনালও, শ্রীলঙ্কায় হওয়ার কথা। সেখানে ভারত ম্যাচ বয়কট করার প্রশ্নই ওঠে না।
পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে মহসিন নকভি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তান ক্রিকেটের স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ এবং আইসিসির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
আসলে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আর্থিক সম্পদ। আইসিসিও জানে, এই ম্যাচ ছাড়া বিশ্বকাপের বিপুল আয় সম্ভব নয়। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পক্ষে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো মানে নিজের পায়ে কুড়ুল মারা।
বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। রাজনৈতিক নাটক আর কূটনৈতিক বার্তার বাইরে এসে, এবার মাঠের ক্রিকেটেই নজর ফেরাতে চাইছে ক্রিকেট বিশ্ব।