ফোটো : রয়টার্স ভারতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটারদের জন্য বড়সড় নিয়ম বদলের ভাবনা ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড বা BCCI-এর। কেন্দ্রীয় চুক্তি বা সেন্ট্রাল কনট্র্যাক্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে এবার শুধু পারফরম্যান্স বা সিনিয়রিটিই যথেষ্ট নাও হতে পারে। খেলতে কতটা প্রস্তুত এবং মরসুমজুড়ে কত ম্যাচের জন্য পাওয়া যাচ্ছে, সেটিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা ভাবছে বোর্ড। যদিও এখনও এই বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। গোটা বিষয়টি বর্তমানে আলোচনার প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে।
এখনও পর্যন্ত কোনও ক্রিকেটারকে কেন্দ্রীয় চুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর পারফরম্যান্স, দলের জন্য অবদান এবং সিনিয়রিটির মতো বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে এসেছে। কিন্তু এবার সেই তালিকায় ‘ম্যাচের জন্য উপলব্ধতা’ বা ম্যাচ অ্যাভেলেবিলিটিকেও গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে যুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে।
কেন এমন নিয়মের ভাবনা?
গত কয়েক মাসে ভারতীয় দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার চোটের কারণে বিভিন্ন ম্যাচ থেকে ছিটকে গিয়েছেন। কোনও কোনও ক্রিকেটার দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থেকেছেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ বা ম্যাচে তাঁদের পাওয়া যায়নি।
এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই ক্রিকেটারদের ফিটনেস এবং ম্যাচ খেলার জন্য তাঁদের প্রস্তুত থাকার বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দিতে চাইছে BCCI। বোর্ডের ভাবনা, কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় থাকা ক্রিকেটাররা যাতে যতটা সম্ভব বেশি সময় দলের জন্য উপলব্ধ থাকেন।
অর্থাৎ, কোনও ক্রিকেটার মাঠে থাকলে তাঁর পারফরম্যান্স অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একইসঙ্গে তিনি কতটা নিয়মিতভাবে খেলার জন্য ফিট এবং প্রস্তুত থাকছেন, সেটিও ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় চুক্তির ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হতে পারে।
কী হতে পারে নতুন নিয়ম?
BCCI আপাতত এমন একটি ফর্মুলা নিয়ে আলোচনা করছে, যেখানে গোটা মরসুমজুড়ে একজন ক্রিকেটারের ফিটনেস এবং দলের জন্য তাঁর উপস্থিতির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এই ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় চুক্তি পাওয়ার যোগ্য হতে হলে কোনও ক্রিকেটারকে মরসুমে নির্দিষ্ট সংখ্যক ম্যাচ খেলার জন্য উপলব্ধ থাকতে হতে পারে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই নিয়ম এখনও চূড়ান্ত নয়। ঠিক কত শতাংশ ম্যাচের জন্য ক্রিকেটারকে উপলব্ধ থাকতে হবে, কোন কোন ম্যাচকে হিসেবের মধ্যে রাখা হবে বা চোটের ক্ষেত্রে কী নিয়ম হবে—এই বিষয়গুলিও এখনও নির্ধারিত হয়নি।
এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা
‘স্পোর্টস তক’-কে BCCI-এর এক সূত্র জানিয়েছেন, এই ভাবনাটি এখনও একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বোর্ডের অন্দরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। এমন কোনও নিয়ম বাস্তবে চালু করা সম্ভব এবং যুক্তিযুক্ত হবে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অর্থাৎ, এখনই বলা যাবে না যে আগামী কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকেই ক্রিকেটারদের জন্য এই নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে। BCCI এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
শুধু ভালো পারফরম্যান্সই যথেষ্ট নয়?
যদি শেষ পর্যন্ত এই প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হয়, তাহলে ভারতীয় ক্রিকেটারদের সামনে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। এতদিন কোনও ক্রিকেটারের কেন্দ্রীয় চুক্তির ক্ষেত্রে তাঁর পারফরম্যান্স এবং দলের প্রতি অবদান বড় বিষয় ছিল। ভবিষ্যতে তার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে নিয়মিতভাবে খেলার জন্য ফিট ও উপলব্ধ থাকার বিষয়টিও।
তখন কোনও ক্রিকেটার খুব ভালো পারফর্ম করলেও যদি চোট বা অন্য কোনও কারণে দীর্ঘ সময় দলের বাইরে থাকেন, তাঁর কেন্দ্রীয় চুক্তির ক্ষেত্রে সেই অনুপস্থিতি কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট—চোট পাওয়া এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচ না খেলার বিষয় একভাবে দেখা হবে কি না, তা এখনও জানা যায়নি। প্রস্তাবটি এখনও আলোচনার পর্যায়ে থাকায় এ বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট নিয়মও ঘোষণা করা হয়নি।
ক্রিকেটারদের উপর বাড়বে চাপ?
নতুন নিয়ম চালু হলে ক্রিকেটারদের ফিটনেসের উপর চাপ আরও বাড়তে পারে। শুধু ব্যাটিং, বোলিং বা অলরাউন্ড পারফরম্যান্স নয়, মরসুমজুড়ে নিজেদের ফিট রাখাও তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বিশেষ করে দীর্ঘ মরসুমে একাধিক ফরম্যাটে খেলা ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-২০—তিন ফরম্যাটের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেট এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতাতেও ক্রিকেটারদের ব্যস্ত থাকতে হয়।
তবে BCCI ঠিক কী ধরনের নিয়ম আনতে চলেছে, সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। বোর্ডের অভ্যন্তরীণ আলোচনা শেষ হওয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।