সঞ্জু স্যামসনSanju Samson Father: ‘ছেলের সম্মান বাঁচাতে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছি’, বিশ্বজয়ের পর চোখে জল সঞ্জুর বাবার
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে চূর্ণ করে ভারত যখন তৃতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের উৎসবে মেতেছে, তখন সুদূর কেরালায় নিভৃতে চোখের জল মুছছিলেন এক পিতা। তিনি স্যামসন বিশ্বনাথ। ভারতীয় ক্রিকেটের ‘পোস্টার বয়’ সঞ্জু স্যামসনের বাবা। দীর্ঘ এক দশকের বঞ্চনা, অবজ্ঞা আর সোশ্যাল মিডিয়ার তীব্র কটাক্ষের পর ছেলের এমন রাজকীয় প্রত্যাবর্তন দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি দিল্লি পুলিশের এই প্রাক্তন কনস্টেবল।
প্রার্থনার সেই প্রহর:
বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বে সঞ্জুর অতিমানবিক ব্যাটিং যখন বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে, তখন ঘরের এক কোণে রুদ্ধদ্বার অবস্থায় বসেছিলেন বিশ্বনাথবাবু। তিনি জানালেন, “সকাল ছ’টা থেকে ম্যাচ শেষ হওয়া পর্যন্ত আমি ঠায় বসেছিলাম। কারও ফোন ধরিনি, কারও সঙ্গে কথা বলিনি। শুধু ঈশ্বরের কাছে একটাই আর্জি জানিয়েছিলাম, হে ভগবান, আমার ছেলের সম্মানটুকু বাঁচিয়ে নাও। ওকে একটা অন্তত সুযোগ দাও প্রমাণ করার। আজ সেই দিন এসেছে।” উল্লেখ্য, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অপরাজিত ৯৭ রানের সেই মহাকাব্যিক ইনিংসই সঞ্জুর কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
সংগ্রামের নেপথ্য কাহিনী:
সঞ্জুর ক্রিকেট কেরিয়ারের জন্য নিজের চাকরি ছেড়ে দিল্লি থেকে সপরিবারে কেরালা চলে আসার সেই কঠিন সিদ্ধান্তের কথা আজও ভোলেননি বিশ্বনাথ। তিনি বলেন, “সঞ্জু যখন ছোট, আমি তখনই ওর প্রতিভা চিনেছিলাম। দিল্লির অনূর্ধ্ব-১৩ দলে সুযোগ না পাওয়াটা ছিল বড় ধাক্কা। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। ওকে সবসময় বলেছি, মাঠে নেতার মতো বিচরণ করো।” সমালোচকদের উদ্দেশ্যে তাঁর সপাট জবাব, “যারা এক সময় ওকে ট্রোল করত, আজ তারাই ধন্য ধন্য করছে। এটাই জীবনের সেরা পাওনা। তবে বড় কোনো উৎসবের পরিকল্পনা নেই আমাদের। দেশের হয়ে অবদান রাখাটাই তো ওর প্রধান দায়িত্ব ছিল।”
.