অস্তের পথে সূর্যকুমার যাদবBCCI To Drop Suryakumar Yadav: সাফল্যের মুকুটে পালক একটাই টি২০ বিশ্বকাপ। কিন্তু ক্রিকেটের বাইশ গজে শুধু ট্রফি দিয়ে ক্রিকেটার হিসেবে দলে যাওয়া পাওয়া কঠিন। অধিনায়ক হিসেবে সূর্যকুমার যাদব ভারতকে বিশ্বসেরার তকমা এনে দিলেও, ব্যাটার সূর্যের তেজ কিন্তু ক্রমশ ফিকে হচ্ছে। বিসিসিআই-এর অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে এক চাঞ্চল্যকর খবর। ফর্মের এই পড়তি গ্রাফ বজায় থাকলে খুব শীঘ্রই দল থেকে ছাঁটাই হতে পারেন স্বয়ং অধিনায়ক। বোর্ড সূত্রে খবর, আসন্ন ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরই হতে চলেছে তাঁর কেরিয়ারের ভাগ্যবিধাতা।
বিশ্বজয়ী হয়েও সূর্যের আকাশে কিন্তু কালো মেঘ জমছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সাল থেকে তাঁর ব্যাটে যেন গ্রহণ লেগেছে। স্ট্রাইক রেট ১২০-এর নিচে নেমে যাওয়া তো বটেই, এমনকি একটিও অর্ধশতরান আসেনি তাঁর ঝুলিতে। ২০২৬-এ কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করলেও বড় ম্যাচে তিনি ডাহা ফেল। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ১৮ রান করে আউটের পর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিতে ১১ এবং নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইনালের মঞ্চে ‘ডাক’ মেরে ফেরাটা নির্বাচকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
সামনে ২০২৮-এর লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক এবং পরবর্তী টি-২০ বিশ্বকাপ। তখন সূর্যের বয়স ঠেকবে ৩৮-এর ঘরে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার পথে এই বয়সটা কি অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে? প্রশ্নটা তুলে দিয়েছে অজিত আগরকরের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি। আগামী জুন-জুলাই মাসে ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সিরিজই হবে তাঁর শেষ সুযোগ। সেখানে যদি ব্যাটার হিসেবে তিনি নিজেকে প্রমাণ করতে না পারেন, তবে ২০২৮ পর্যন্ত তাঁর কপ্তানি বজায় থাকা তো দূর, দলেও জায়গা পাওয়া দুষ্কর হবে।
এদিকে বৈভব সূর্যবংশীর মতো তরুণ প্রতিভারা এখন জাতীয় দলের দরজায় সজোরে ধাক্কা দিচ্ছেন। আয়ারল্যান্ড সফরে এই তরুণকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে বলে জোর গুঞ্জন। সঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিষাণদের মতো আগ্রাসী ব্যাটাররা সূর্যকে টপকে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। কোচ গৌতম গম্ভীর সূর্যের পাশে দাঁড়ালেও বোর্ড এখন চরম পেশাদার। সব মিলিয়ে লর্ডস থেকে ডাবলিন, বিদেশের মাটিতেই কি ভারতের ‘মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রি’-র ক্রিকেট সূর্যাস্ত হবে, নাকি তিনি ফের স্বমহিমায় ফিরবেন, ৩ মে-র পর সেটাই এখন দেখার।