উসমান তারিহ অ ফতেহ ক্ষেপনাস্ত্রটি২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের অস্ত্র হতে পারেন উসমান তারিক। নিজেও আমেরিকার বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতে ভারতীয় ব্যাটারদের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন এই 'বিতর্কিত' পাক স্পিনার। তবে তাঁকে নিয়ে বিতর্ক কেন? আর সূর্যকুমারদের কী বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারিক? বিশ্বকাপের আগে ধারণা করা হচ্ছিল, একবারে ভারতের বিপক্ষে হয়তো তাকে খেলানো হবে। তবে ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে মাঠে নামিয়ে তাকে প্রস্তুত করা হয়েছে।
ফতেহ আসলে কী?
পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্রের নাম ফতেহ। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ফতেহ-২-এর প্রথম পরীক্ষা চালায় পাক সেনা। পাকিস্তানের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি ৪০০ কিলোমিটার দূরত্বে থাকা লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে সক্ষম। এমনকী ‘এস ৪০০’-এর কবচ, আকাশ প্রতিরক্ষাকে ভেদ করতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। অত্যাধুনিক নেভিগেশন সিস্টেম রয়েছে এতে। কৃত্রিম উপগ্রহের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এমনকি এর ওড়ার কায়দা এতটাই অত্যাধুনিক যে কোনও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একে চিহ্নিত করতে পারবে।
তারিককে নিয়ে বিতর্ক কেন?
তাঁর বোলিং অ্যাকশন কি আদৌ বৈধ? এটা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। যদিও আম্পায়াররা বা আইসিসি-র পক্ষ থেকে কোনও আপত্তির কথা শোনা যায়নি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফ্যানরা বিতর্ক শুরু করেছেন। যদিও ভারতের প্রাক্তন স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন মনে করেন, উসমান তারিকের অ্যাকশন নিয়ে কোনও সমস্যা নেই।
আসলে তাঁর অফব্রেক ডেলিভারিগুলোর রান-আপ একেবারেই অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু বল ছোড়ার মুহূর্তে তিনি কয়েক সেকেন্ড থমকে দাঁড়ান। বল ডেলিভারির ঠিক আগে প্রায় দুই সেকেন্ডের জন্য তিনি প্রায় সম্পূর্ণ স্থির হয়ে যান, এরপর একটি স্লিঙ্গিং সাইড-আর্ম অ্যাকশনে অফব্রেক ছুড়ে দেন। এমন বোলিং অ্যাকশনের কারণে পিএসএলে এক বছরে দুইবার তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। দুই বারই সফলভাবে পরীক্ষায় উতরে গিয়ে বোলিং চালিয়ে যান।
ভারতের বিরুদ্ধে নামার আগে কী বললেন উসমান?
ভারতের উপরেই এই ম্যাচের চাপ বেশি থাকবে বলে মনে করেন পাকিস্তানের অফ ব্রেক বোলার। তবে তিনি বাইরের কিছু নয় খেলার দিকেই মন দিতে চান। তিনি বলেন, 'আমার ধারণা, চাপটা তাদের ওপরেই বেশি থাকবে। কারণ তারা যেভাবে এগুলো নিয়ে আলোচনা করছে— মানে তারা যদি কেবল আপত্তির খাতিরেই বিষয়টি নিয়ে পড়ে থাকে— তবে সেটা এটাই প্রমাণ করে যে তারা হয়তো বাড়তি চাপে আছে। তবে আমি এ নিয়ে নিশ্চিত নই। আমি আসলে আমার খেলার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি। মিডিয়া বা অন্য কোথাও কী হচ্ছে, তা নিয়ে আমার কোনো ধারণা নেই। বিষয়টা খুব সাধারণ, আমি শুধু আমার ক্রিকেট আর অনুশীলনে মনোনিবেশ করছি।’
পাকিস্তান মিডিয়া বা সাধারণ ফ্যানরা উসমানকে তুরুপের তাস হিসেবে দেখলেও, ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচকে সাধারণ একটা ম্যাচ হিসেবেই দেখছেন উসমান। তিনি বলেন, 'আমার কাছে বা দলের কাছে এটি স্রেফ একটি সাধারণ ম্যাচ। কারণ, যখন আপনি মাথার মধ্যে অতিরিক্ত উত্তেজনা বা ওই জাতীয় কিছু বয়ে বেড়াবেন, তখন কাজটা কঠিন হয়ে যায়; তার চেয়ে সব কিছু সহজ রাখা ভালো। শুধু পরিকল্পনায় অটল থাকা, এটুকুই।’