বরুণ চক্রবর্তীর মিস্ট্রি প্রশ্নের মুখেVarun Chakraborty Bowling: একটা সময় ছিল যখন তাঁর হাতের আঙুলের কারসাজি বুঝতে কালঘাম ছুটত বিশ্বের তাবড় ব্যাটারদের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও তাঁর জবাব ছিল না ব্যাটারদের সামনে। যে কারণে টি২০ আন্তর্জাতিক বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে তিনি পৌঁছেছিলেন ১ নম্বরে। উইকেট পাচ্ছেন না তা নয়, কিন্তু হঠাৎই যেন তাঁকে পড়ে ফেলেছেন ব্যাটাররা। নাইট রাইডার্সের সেই ‘মিস্ট্রি স্পিনার’ বরুণ চক্রবর্তীকে ঘিরে এখন ইডেন থেকে হায়দরাবাদ, সর্বত্রই হতাশার সুর। ২০২৬-এর আইপিএলে বরুণের সেই রহস্যময় ডেলিভারিগুলো যেন এখন ডিকশনারির মতো খোলা খাতা। ব্যাটাররা অনায়াসেই তাঁর বলকে গ্যালারিতে পাঠাচ্ছেন। ক্রিকেট মহলে এখন একটাই প্রশ্ন, বরুণ কি তবে ফুরিয়ে গেলেন, নাকি তাঁর মিস্ট্রি এখন স্রেফ ইতিহাস?
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে গত ম্যাচে বরুণের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো খারাপ। তাঁর বিষাক্ত ক্যারম বল বা গুগলি এখন অনেক বেশি প্রেডিক্টেবল হয়ে পড়েছে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে প্রতিটি স্পিনারের ভিডিও অ্যানালিসিস করে ব্যাটাররা আগেভাগেই বুঝে নিচ্ছেন বল কোন দিকে ঘুরবে। বরুণের ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। একসময়ের ত্রাস এখন ব্যাটারদের কাছে স্রেফ রান তোলার ‘সফট টার্গেট’।
পরিসংখ্যান বলছে, পাওয়ারপ্লে বা মাঝের ওভারগুলোতে বরুণ যখনই বল করতে আসছেন, প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা তাঁকে লক্ষ্য করে পালটা আক্রমণ শানাচ্ছেন। তাঁর বোলিংয়ে সেই আগের মতো নিখুঁত লাইন-লেন্থের অভাব স্পষ্ট। অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে তিনি অনেক সময় খেই হারিয়ে ফেলছেন। আর তার খেসারত দিতে হচ্ছে কেকেআর-কে। ডাগ-আউটে বসে গৌতম গম্ভীরদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হচ্ছে।
তবে কি বরুণের কামব্যাক করার রাস্তা বন্ধ? টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কামব্যাক করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। কিন্তু তার জন্য বরুণকে নিজের বোলিংয়ে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু আঙুলের কেরামতিতে ভরসা না করে পেস ভ্যারিয়েশন এবং বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হবে। তা না হলে মিস্ট্রি স্পিনারের তকমাটা চিরতরে হারিয়ে যাবে আইপিএলের গ্ল্যামারের আড়ালে।
এখনও হাতে বেশ কিছু ম্যাচ বাকি। নাইট সমর্থকরা চাইছেন তাঁদের প্রিয় স্পিনার আবার স্বমহিমায় ফিরুন। কিন্তু বর্তমান যা পরিস্থিতি, তাতে বরুণ চক্রবর্তীকে নিয়ে আশার চেয়ে আশঙ্কাই বেশি। ব্যাটারদের ‘খেলনা’ হয়ে থাকা থেকে মুক্তি পেতে বরুণকে জাদুকরের মতো নতুন কোনো ফন্দি আঁটতেই হবে। নয়তো ২০২৬-এর আইপিএল তাঁর কেরিয়ারের জন্য এক অন্ধকার অধ্যায় হয়েই থেকে যাবে।