
রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, মুস্তাফিজুর রহমানমুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল খেলতে না দেওয়া নিয়ে উত্তাল ক্রিকেট বিশ্ব। বাংলাদেশের সঙ্গে এ নিয়ে সম্পর্ক খারাপ হয়েছে ভারতের বোর্ডের। কূটনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভাব না পড়লেও, দুই ক্রিকেট বোর্ডই প্রায় বয়কট করার রাস্তায় হাঁটতে চলেছে। বাংলাদেশ ভারতে টি২০ বিশ্বকাপ খেলতে আসতে চাইছে না। তবে পরিস্থিতি এরকম চলতে থাকলে বড় সমস্যায় পড়তে পারে বিসিবি।
কেন বিসিবি-র সমস্যা হতে পারে?
বিসিসিআই-এর সঙ্গে লড়াইয়ে যেতে চায় না কোনও বোর্ডই। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো বোর্ডও ভালভাবেই জানে, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হলে, বিরাট ক্ষতি হতে পারে তাদের। সেরকমই ভারত যদি বাংলাদেশে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে বিরাট আর্থিক ক্ষতি হবে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের সরকার তাদের দেশে আইপিএল না দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সমস্যা আরও বাড়তে থাকলে ভারতও এমন পদক্ষেপ নিতে পারে। তাতে কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হতে পারে বাংলাদেশেরই।
আইপিএল থেকে ব্যান হলে...
আইপিএলে গুটিকতক বাংলাদেশি ক্রিকেটার খেলার সুযোগ পান। যে টাকা তাঁরা এখানে পান। তার ১০ শতাংশ পায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। দুই ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে তিক্ততা যদি সেরকম জায়গায় পৌঁছে যায়, তবে সমস্ত বাংলাদেশি ক্রিকেটারকেই ব্যান করে দিয়ে পারে বিসিসিআই। আর সেক্ষেত্রে প্লেয়ারদের কাছ থেকে যে ১০ শতাংশ টাকা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পেত সেটাও তারা পাবে না।

অন্য দেশে ক্রিকেট লিগ খেলতেও সমস্যা
শুধু তো ভারতে নয়, আইপিএল-এর বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চেইজির দল রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আমেরিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও UAE-র মতো দেশে। সেখান থেকেও যদি বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ব্যান করা হয় তবে সমস্যা আরও অনেকটাই বেড়ে যাবে। কারণ সেই দেশগুলিতেও খেলতে পারবেন না তাঁরা। যদিও এক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশ বিসিসিআই দিতে পারবে না। তবে এই সমস্ত দেশের লিগে যে সহজেই ভারতের বোর্ড প্রভাব খাটাতে পারবে তা সহজেই অনুমেয়।
বাংলাদেশ যদি নিজেদের অবস্থান থেকে সরে না আসে
ICC-তে BCCI-এর প্রভাব যে ঠিক কতটা, সেটা সকলেই জানেন। ভারতের বোর্ড তাদের প্রভাব খাটিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে পারে। বাংলাদেশ বিশ্বকাপের জন্য দলকে ভারতে পাঠাতে অস্বীকার করেছে এবং ম্যাচ সরানোর দাবি করেছে। বর্তমানে ICC-তে ভারতীয় ক্রিকেটের প্রভাব অনেক বেশি, কারণ সেখানকার চেয়ারম্যান জয় শাহ এবং CEO সংযোগ গুপ্তা দু’জনেই ভারতীয়। ফলে BCCI চাইলে ICC-কে ক্রীড়াসূচি না বদলাতে বলতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের জায়গা হারাতে হতে পারে, পাশাপাশি BCB-কে জরিমানা বা স্থগিতাদেশও ভোগ করতে হতে পারে। এ ছাড়া ICC থেকে পাওয়া বার্ষিক অর্থেও বড় কাটছাঁট হতে পারে।