T20 বিশ্বকাপে নাটক করছে পাকিস্তানICC T20 বিশ্বকাপ শুরু হয়ে যাচ্ছে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে। তার আগে আজ অর্থাত্ বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে নামছে ভারতীয় দল। এহেন শেষ মুহূর্তেও নাটক চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হওয়ার কথা। সেই ম্যাচ ঘিরে এখন কূটনীতি, রাজনীতি ও অর্থনীতি মিলে ঘোঁট পেকেছে। আর এই যাবতীয় জটিলতার নেপথ্যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বা PCB।
পাকিস্তান এখনও দাবি করছে, তারা বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করবে। এখন প্রশ্ন হল, হাইভোল্টেজ এই ম্যাচ শুধুই একটি ক্রিকেট ম্যাচ নয়, ক্রিকেট অর্থনীতির কোটি কোটি টাকার আর্থিক স্বার্থও জড়িয়ে রয়েছে এই ম্যাচে। একটি হিসেবে দেখা যাচ্ছে, PCB-র ৭ বছরে যা আয়, ভারত-পাকিস্তান একটি ম্যাচের আয়ের সমান। তাহলে শেষ মুহূর্তে কি পাল্টি মারবে পাকিস্তান?
আগেও পাকিস্তান টুর্নামেন্ট না খেলার হুমকি দিয়েছিল
পাকিস্তান পাল্টি মারতে উস্তাদ! অতীতে একাধিকবার এই রকম হয়েছে। এশিয়া কাপের আগেও পাকিস্তান টুর্নামেন্ট না খেলার হুমকি দিয়েছিল, নাটক করেছিল,কিন্তু শেষ মুহূর্তে খেলেছিল। এবারও তেমনই নাটক করছে না তো!
সংবাদ সংস্থা PTI জানাচ্ছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের একটি সূত্রের বক্তব্য, PCB চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও। বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে জাতীয় নির্বাচন শুরু হচ্ছে। সেই নির্বাচনের জন্যই নকভি কূটনৈতিক নাটক শুরু করেছেন। নির্বাচন মিটে গেলেই পাল্টি মারতে পারেন।
নকভি U-টার্ন মারতে পারেন
একটি সূত্রের দাবি, 'নকভি ক্রিকেট প্রশাসক কম, রাজনৈতিক নেতা বেশি। তাই দেশের ক্রিকেট দলকে রাজনীতির শিকার করতে ওঁর একটুও বিবেকে লাগবে না। বাংলাদেশে ভোটের আগে ভারত ম্যাচ বয়কটের হুমকি দিয়ে একটি রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছেন নকভি। বাংলাদেশের ভোট মিটলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে।'
ICC পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে পারে
পাকিস্তানের এই অবস্থান আইসিসি-কে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটিকে আইসিসি ইভেন্টের সবচেয়ে বড় রাজস্ব উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সম্প্রচার অধিকার, স্পনসরশিপ এবং বিজ্ঞাপন সম্পর্কিত বিপুল পরিমাণ অর্থ এই একক ম্যাচের উপর নির্ভর করে। প্রতিবেদন অনুসারে, যদি এই ম্যাচটি না হয়, তাহলে আইসিসি শত শত কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। আইসিসি ইতিমধ্যেই পিসিবি-কে সতর্ক করে দিয়েছে যে ম্যাচ বয়কট করলে গুরুতর আর্থিক ও আইনি পরিণতি হতে পারে। সম্প্রচারকদের কাছ থেকে আইনি পদক্ষেপ এবং পাকিস্তানের বার্ষিক রাজস্ব ভাগ হারানোর ঝুঁকিও রয়েছে। তাছাড়া, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পাকিস্তান বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে।
নকভিও এই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত। তিনি জানেন, আইসিসি যদি তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়, তাহলে তার বোর্ড সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে যাবে। তিনি বিশ্বব্যাপী একঘরে হয়ে পড়বেন। এমন পরিস্থিতিতে, পাকিস্তানের পাল্টি খাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।