আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০২৭ - রয়টার্স ফাইল ছবিক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০২৭ (Cricket World Cup 2027)-এর টুর্নামেন্ট ফর্ম্যাট নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)-এর বিরুদ্ধে যুগ্ম প্রতিবাদে নামল স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস। দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডই বিশ্বকাপের কোয়ালিফিকেশন নীতি ও টুর্নামেন্টের ফর্ম্যাট নিয়ে ক্ষুব্ধ।
স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস ক্ষুব্ধ
২০২৭ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ১৮ মাস বাকি। তার আগে স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস যুগ্ম ভাবে বিবৃতিতে বিশ্বকাপের ফর্ম্যাটকে 'অত্যন্ত হতাশাজনক' আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে অ্যাসোসিয়েট দেশগুলির ক্রিকেটের যে অগ্রগতি হয়েছে, তা ধাক্কা খেতে পারে। পাশাপাশি নতুন দলগুলির জন্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও সীমিত হয়ে যেতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'ফর্ম্যাটে এই বদল অ্যাসোসিয়েট সদস্য দেশগুলির ক্রিকেটের জন্য একটি বড় ধাক্কা এবং বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের প্রসারে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন এক সময়ে যখন ক্রিকেটের পরিধি বাড়ানো, নতুন দর্শক তৈরি করা এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে, তখন উদীয়মান দেশগুলির জন্য অর্থবহ সুযোগ কমিয়ে দেওয়া একেবারেই ভুল বার্তা দিচ্ছে।'
ICC-র নীতিতে প্রশ্ন স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের
শুধু ফর্ম্যাট নয়, পরিবর্তনগুলি যে প্রক্রিয়ায় ICC শুরু করছে, সেই প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের। তাঁদের বক্তব্য, ICC নয়া নিয়ম চালু করার আগে অ্যাসোসিয়েট সদস্য দেশগুলির সঙ্গে ঠিক মতো আলোচনাই করেনি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কার্যত জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বদলগুলি। কোনও মতামত নেওয়া হয়নি। দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড বিবৃতিতে লিখেছে, 'এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে যা সরাসরি অ্যাসোসিয়েট সদস্য দেশগুলিকে প্রভাবিত করে, তা নেওয়ার আগে অবশ্যই আলোচনা ও পরামর্শ নেওয়া উচিত এবং সংশ্লিষ্টদের যথেষ্ট সময় আগে সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানানো প্রয়োজন হয়। টুর্নামেন্ট শুরুর ১৮ মাসও বাকি নেই, নয়া নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হল। আমাদের চিন্তা করার সময় দেওয়া হল না।'
২০২৩ সালের বিশ্বাপে খেলেছিল নেদারল্যান্ডস। অন্যদিকে স্কটল্যান্ড ইউরোপের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় অ্যাসোসিয়েট দলের হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।
২০২৭ সালের বিশ্বকাপের ফর্ম্যাট কেমন ও কেন বিতর্ক?
২০২৭ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের নয়া ফর্ম্যাট গত ১৫ জুলাই প্রকাশ্যে আনে আইসিসি। টুর্নামেন্টে ১৪টি দলের অংশগ্রহণের কাঠামোই বজায় থাকছে। তবে নকআউট পর্বের আগে এবার তিন ধাপের নতুন ফর্ম্যাট চালু করা হচ্ছে। টুর্নামেন্ট শুরু হবে সুপার সিরিজ দিয়ে। যোগ্যতা অর্জনকারী দলগুলির মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে নীচে থাকা তিনটি দল এই পর্বে খেলবে। তারা রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে একে অপরের বিরুদ্ধে খেলবে। সেখান থেকে শুধুমাত্র বিজয়ী দলই পরের পর্বে যাওয়ার সুযোগ পাবে।
এরপর সেই দলটি বাকি ১১টি দলের সঙ্গে যোগ দেবে। দ্বিতীয় পর্বে মোট ১২টি দলকে ছয়টি করে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। এই পর্বে মোট ৩০টি ম্যাচ হবে। প্রতিটি গ্রুপের প্রথম তিনটি দল সরাসরি পরের পর্বে উঠবে। পাশাপাশি, দুই গ্রুপের চতুর্থ স্থানে থাকা দলগুলির মধ্যে সেরা দলটিও পরবর্তী পর্বে জায়গা করে নেবে। এরপর সাতটি দল নিয়ে শুরু হবে ‘সুপার সেভেন’ পর্ব। সেখানে রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে মোট ২১টি ম্যাচ খেলা হবে। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চারটি দল সেমিফাইনালে উঠবে। প্রথম স্থানে থাকা দল খেলবে চতুর্থ স্থানে থাকা দলের বিরুদ্ধে, আর দ্বিতীয় স্থানের দল মুখোমুখি হবে তৃতীয় স্থানের দলের। দুই সেমিফাইনালের জয়ী দল এরপর ফাইনালে মুখোমুখি হবে।
ICC বলছে, ফর্ম্যাটে এই সংস্কার টুর্নামেন্টকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্যই করা হয়েছে। আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক হবে বিশ্বকাপ। যদিও স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের আশঙ্কা হল, এই পরিবর্তনগুলির জন্য অ্যাসোসিয়েট দেশগুলির কাছে বিশ্বকাপের পথ কঠিন হয়ে গেল।