
আগামী বুধবার লিওনেল মেসির জন্মদিন। ৩৯ বছর বয়স হয়ে যাবে বিশ্বফুটবলের রাজপুত্রের। তার আগে আজ বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে নামছেন LM10। ভারতীয় সময় আজ রাত সাড়ে ১০টায় ম্যাচ। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিক করে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে আর্জেন্টিনার তারকা।

বিশ্বকাপে ১৬টি গোল করা ক্লোজের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেছেন তিনি। কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন মেসি। বাবা অসুস্থ। হ্যাটট্রিক করে কেঁদে ফেলেন তিনি। এবার অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামলেই সেই রেকর্ড ভেঙে এককভাবে ইতিহাসের শীর্ষে উঠে যাওয়ার সুযোগ থাকবে মেসির সামনে।

তবে ব্যক্তিগত রেকর্ড নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাতে রাজি নন মহাতারকা। তাঁর কথায়, 'শেষ পর্যন্ত এটা শুধু একটা পরিসংখ্যান, এর বেশি কিছু নয়।' কিন্তু ফুটবল বিশ্বের কাছে বিষয়টা নিছক পরিসংখ্যানের গণ্ডিতে আটকে নেই। কারণ, বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ফুটবলারদের তালিকায় আরও একটি অনন্য অধ্যায় যোগ করার পথে রয়েছেন মেসি।

২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো আর বিশ্বকাপ খেলবেন না মেসি। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে আরও একবার বিশ্বমঞ্চে নামার আকর্ষণ তিনি এড়াতে পারেননি। চার বছর আগে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ এনে দেওয়া সেই মানুষটিই আবারও দেশের স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দু।

এবার আর্জেন্টিনার লক্ষ্য টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতা। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পরে আর কোনও দল পরপর দুই বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। সেই ইতিহাস গড়ার মিশনেই এগোচ্ছে আর্জেন্টিনা। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জয় পেলে গ্রুপের শীর্ষস্থান প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে আর্জেন্টিনার। ফলে নকআউট পর্বের আগে কিছুটা বিশ্রামও পেতে পারেন মেসি। তবে অস্ট্রিয়াকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ইতিমধ্যেই তারা জর্ডনকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী।

এক সময় আর্জেন্টিনার সমর্থকদের একাংশের অভিযোগ ছিল, বার্সেলোনার হয়ে যে জাদু দেখাতেন মেসি, দেশের জার্সিতে তা দেখা যায় না। কিন্তু সেই অধ্যায় এখন অতীত। বর্তমানে আর্জেন্টিনা দলের প্রতিটি ফুটবলারের কাছে তিনি শুধু অধিনায়ক নন, অনুপ্রেরণারও উৎস।

মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার বলেন, 'যদি কেউ মনে করে থাকে যে লিওনেল মেসিকে ছাড়াও এই দল ভাল খেলতে পারে, তবে আজ প্রমাণ হয়ে গেছে, তিনিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।'

আর্জেন্টিনা কোচ স্কালোনিও মেসির কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তাঁর কথায়, 'মেসি এমন এক পরিবেশ তৈরি করে, যা ভাষায় বোঝানো কঠিন। দলের প্রত্যেকে ওর জন্য হৃদয় উজাড় করে খেলতে প্রস্তুত।'

মেসির সতীর্থ জুলিয়ান অ্যালভারেজের কথায়, 'ছোটবেলা থেকেই উনি আমার আদর্শ। সুযোগ পেলে ওঁর জন্য কিছু ফিরিয়ে দিতে চাই।' আর রডরিগো ডি পল তো বলেই দিলেন, 'মেসি যদি বলে, আমরা ওর জন্য যুদ্ধে নামতেও প্রস্তুত।'

আগের মতো ৯০ মিনিট জুড়ে মাঠ দাপিয়ে বেড়ানোর ক্ষমতা হয়তো আর নেই। কিন্তু কখন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে হয়, সেটা এখনও সবচেয়ে ভাল জানেন মেসি। আর সেই কারণেই ৩৮ বছর বয়সেও তিনি শুধু আর্জেন্টিনার নয়, গোটা ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে রয়েছেন।