ফাইল ছবি (PTI)২ মিনিটেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু তারপর কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে শুরু হল লাল-হলুদের গোলের বন্যা। নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে ৭-২ গোলে উড়িয়ে IFA শিল্ড ফাইনালে উঠে গেল লাল-হলুদ ব্রিগেড। ফাইনালে ফের মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। অর্থাৎ মরশুমের চতুর্থ কলকাতা ডার্বির মঞ্চ তৈরি।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য একেবারেই ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে ছিল না। দ্বিতীয় মিনিটেই রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে বল নিয়ে বেরিয়ে যান নর্থ ইস্টের আলি আজারাই। গোলরক্ষক লাচেনপাকে কাটিয়ে ফাঁকা গোলে বল পাঠিয়ে নর্থইস্টকে এগিয়ে দেন তিনি।
তবে সেই ধাক্কা সামলাতে বেশি সময় নেয়নি লাল-হলুদ। ১১ মিনিটে ক্রিস ইকোনোমিডিসের উঁচু করে বাড়ানো বল থেকে হেডে গোল করেন ডেভিড লালহ্লানসাঙ্গা। ১-১।
এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় ইস্টবেঙ্গল। ২৩ মিনিটে ড্যানি রামিরেজের ক্রস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রোহিত কুমার। নর্থইস্টের রক্ষণ তাঁকে মার্ক না করায় পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে নিখুঁত ফিনিশ করেন তিনি।
৪৩ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। নর্থইস্টের রক্ষণ থেকে বল পরিষ্কার না হওয়ার সুযোগ নিয়ে ক্রিস ইকোনোমিডিস বল দখল করেন এবং গোলরক্ষক মোহনরাজকে পরাস্ত করেন। প্রথমার্ধ শেষ হয় ৩-১ ব্যবধানে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবার গোল। বিরতির পর মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নিজের দ্বিতীয় গোল করে ইস্টবেঙ্গলের ব্যবধান বাড়ান ডেভিড। ৫৬ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। ডান দিক থেকে বক্সে বল পেয়ে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে চিপ করে বল জালে পাঠান ডেভিড। স্কোরলাইন তখন ৫-১।
এরপর ম্যাচে নর্থইস্ট আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ৮৩ মিনিটে আলি আজারাই নিজের দ্বিতীয় গোল করেন। তবে সেটিও পরিস্থিতি বদলানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।
৮৫ মিনিটে নিজের ইস্টবেঙ্গল অভিষেকেই গোল করেন আইভরি কোস্টের আকে লোবা। ডান দিক থেকে রশিদের বাড়ানো বল ভলিতে দূরের পোস্টে পাঠিয়ে দেন তিনি।
ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে আরও এক ডেবিউটান্ট গোল করেন। ৯১ মিনিটে লুকাস জভোলিনস্কির ফিনিশে ইস্টবেঙ্গলের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৭-এ। শেষ পর্যন্ত ৭-২ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লাল-হলুদ।
এই জয়ের ফলে আইএফএ-র শিল্প ফাইনালে পৌঁছে গেল ইস্টবেঙ্গল। আর সেখানে অপেক্ষা করছে মোহনবাগান। অর্থাৎ আবারও কলকাতা ডার্বি। মরশুমে দুই দলের চতুর্থ সাক্ষাতের মঞ্চ তৈরি হয়ে গেল। এই শিল্ডের ইতিহাসেও দুই কলকাতা প্রধানের দাপট দীর্ঘদিনের। ইস্টবেঙ্গল এখনও পর্যন্ত রেকর্ড ২৯ বার এই ট্রফি জিতেছে। মোহনবাগানের ঝুলিতে রয়েছে ২১টি শিল্ড জয়। এবার সেই ইতিহাসে আরও একটি কলকাতা ডার্বি যোগ হতে চলেছে।