East Bengal: ২২ বছর পর ট্রফি জয়, মিলিয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল-আর্সোনালকে

বাইশ বছর। এই বাইশ বছরই মিলিয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল আর ইংল্যান্ডের আর্সেনালকে। প্রথম আইএসএল ট্রফি ঘরে তুলল লাল-হলুদ। একটা আস্ত প্রজন্ম বদলে যাওয়ার জন্য এই দুটো দশক যথেষ্ট। তাই আজকের ইস্টবেঙ্গলের জেন জি সমর্থকদের কাছে আগেরবারের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্মৃতিটুকুও নেই। একই কথা প্রযোজ্য আর্সেনালের জন্যও। তবুও সমর্থকদের ধল নামে দুই ক্লাবের ম্যাচেই।

Advertisement
২২ বছর পর ট্রফি জয়, মিলিয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল-আর্সোনালকেআর্সেনাল ও ইস্টবেঙ্গল

বাইশ বছর। এই বাইশ বছরই মিলিয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল আর ইংল্যান্ডের আর্সেনালকে। প্রথম আইএসএল ট্রফি ঘরে তুলল লাল-হলুদ। একটা আস্ত প্রজন্ম বদলে যাওয়ার জন্য এই দুটো দশক যথেষ্ট। তাই আজকের ইস্টবেঙ্গলের জেন জি সমর্থকদের কাছে আগেরবারের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্মৃতিটুকুও নেই। একই কথা প্রযোজ্য আর্সেনালের জন্যও। তবুও সমর্থকদের ধল নামে দুই ক্লাবের ম্যাচেই।

২০০৪ সালে যখন আর্সেন ওয়েঙ্গারের সেই আর্সেনাল থিয়েরি অঁরি, প্যাট্রিক ভিয়েরা আর ডেনিস বার্গক্যাম্পদের নিয়ে অপরাজিত থেকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগটা পকেটে পুরেছিল, ময়দানের লাল-হলুদ তাঁবু তখন সুবাস ছড়াচ্ছে অন্য এক সাফল্যের। ২০০৪ সালে সুভাষ ভৌমিকের সেই স্বপ্নের ইস্টবেঙ্গল ব্যাক-টু-ব্যাক জাতীয় লিগ ঘরে তুলে নিয়ে গিয়েছে। বাইচুং ভুটিয়ার পাশাপাশি ডগলাস ডি সিলভা, মাইক ওকোরোদের সেই সময় আটকানো যাচ্ছে না। 

তারপরেই অন্তহীন অপেক্ষা
লন্ডনের উত্তর ভাগে গানার্সদের ট্রফি ক্যাবিনেটে যেমন মরচে পড়তে শুরু করেছিল, ঠিক একইভাবে কলকাতার ময়দানে লাল-হলুদ মশালটাও জ্বলছিল। তবে সেই তেজ উধাও। বৃহস্পতিবার ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হল ইস্টবেঙ্গল। আর্সেনালের যেমন বুকায়ো সাকা বা মার্টিন ওডেগার্ডরা মাঝমাঠ আর উইংয়ে আগুন ঝরিয়েছেন, ইস্টবেঙ্গলের ইউসেফ, আনোয়ার, প্রভসুখন গিলরাও তেমনই মাঠে রক্ত জল করেছেন সেই হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরিয়ে আনতে। আর আরও একজনের কথা না বললেই নয়, তিনি হলেন কেভিন সিবিয়ে।

মিলটা আরও এক জায়গায়। আর্সেনাল যখন বার্নলিকে হারিয়ে ট্রফি নিশ্চিত করছিল, গালারিতে ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ সমর্থককে কাঁদতে দেখা গেছে, যিনি ২০০৪ সালের পর আর লিগ জয়ের আনন্দ পাননি। বৃহস্পতিবারের কিশোরভারতীর গ্যালারিতে বা ময়দানের ক্লাবের গ্যালারিতে একই দৃশ্য দেখা গিয়েছে। যে সমর্থকটি ২০০৪ সালে কুড়ি বছরের তরুণ ছিলেন, আজ তিনি মধ্যবয়সী, চুলে পাক ধরেছে। কিন্তু আবেগের তীব্রতা কমেনি এক ফোঁটাও।

লন্ডন আর কলকাতার দূরত্ব কয়েক হাজার মাইলের হতে পারে, কিন্তু বাইশ বছরের কান্নার ভাষাটা এক। বুক ভাঙা যন্ত্রণার পর ট্রফি ছুঁয়ে দেখার আকুলতাটাও এক। আর্সেনাল পেরেছে। এমিরেটসের লাল-সাদা রঙে বসন্ত এসেছে। এবার  আকাশেও উড়ল লাল-হলুদ আবির।  আবেগে কিশোর ভারতীর ভেতরে ঢুকে গিয়ে প্রিয় নায়কদের ছুঁয়ে দেখার আকুতি ছিল, ছিল প্রতিটা মুহূর্ত ক্যামেরায় ধরে রাখার প্রবল চেষ্টা। ইউসেফ এজ্জেজারিকে মাথায় তুলে নাচ, মালা পরিয়ে দেওয়া সবটাই ছিল। কিশোর ভারতীর ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে সৌভিকের হাতে যখন কাপ্টা তুলে দিলেন ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে, তখন আনন্দে ফেটে পড়ল কিশোর ভারতী।

Advertisement

POST A COMMENT
Advertisement