কার্লো আনসালত্তিতাঁকে বলা হয় কামব্যাক কিং। দল গোল খেলেই, বদলে যায় স্ট্র্যাটেজি। সেটা কার্যত শেষ করে দেয় প্রতিপক্ষকে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এমন কাজ বারবার করেছেন, ব্রাজিলের বর্তমান কোচ। অনেকেই বলছেন, আনসালোত্তি সেই কাজটাই করছেন পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের হয়ে। আসুন দেখে নেওয়া যাক, আনসালোত্তি এত আগে কোন কোন ম্যাচে এমন মহাকাব্যিক কামব্যাক করেছেন
১. রিয়াল মাদ্রিদের 'লা দেসিমা' (২০১৪ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল)- রিয়ালের হয়ে প্রথম বার কোচ হয়ে আনসালোত্তির সবচেয়ে বড় কামব্যাক ছিল আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে। ম্যাচের ৯৩ মিনিট পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ঠিক ৯৩ মিনিটে সার্জিও রামোসের হেড ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায়। এরপর রিয়াল ৪-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে তাদের ঐতিহাসিক ১০ম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ (La Décima) ট্রফি ঘরে তোলে।
২. ২০২২ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অলৌকিক নকআউট পর্ব- ২০২১-২২ মরসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আনসালোত্তির রিয়াল মাদ্রিদ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা কামব্যাকের গল্প লেখে:পিএসজি-র বিরুদ্ধে রাউন্ড অফ ১৬-এ। দুই লেগের এই ম্যাচে প্রথম লেগে ১-০ ব্যবধানে হারের পর, দ্বিতীয় লেগেও প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ে, করিম বেনজেমার মাত্র ১৭ মিনিটের এক অবিশ্বাস্য হ্যাটট্রিকে পিএসজিকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে রিয়াল।
৩. চেলসি (কোয়ার্টার ফাইনাল): সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে চেলসি ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে রিয়ালকে ছিটকে দেওয়ার মুখে দাঁড় করায়। সেখান থেকে রদ্রিগো এবং বেনজেমার গোলে কামব্যাক করে সেমিফাইনালে ওঠে মাদ্রিদ।
৪. ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল: ম্যাচের ৮৯ মিনিট পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে (অ্যাগ্রিগেটে ৫-৩) পিছিয়ে ছিল রিয়াল। ৯০ ও ৯১ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় রদ্রিগোর জোড়া গোলে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। পরবর্তীতে বেনজেমার পেনাল্টি গোলে ম্যানচেস্টার সিটিকে স্তব্ধ করে ফাইনালে পৌঁছায় তারা।
বেঞ্চের গভীরতা ও ঘরোয়া লিগের কামব্যাক
আনসালোত্তির দলগুলো কেবল নকআউটেই নয়, লিগ ম্যাচেও বারবার পিছিয়ে থেকে জিতেছে। ২০২৩-২৪ লা লিগা মরসুমে তাঁর দল প্রায় ১০টি ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেছিল, যা তাঁকে লিগ জিততে সাহায্য করে। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ে শেষ মুহূর্তের জুড বেলিংহ্যামের ৯২ মিনিটের গোলে ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচ জেতে তাঁর দল।
আর এবার ব্রাজিলের দায়িত্ব নিয়েও সেই কাজটাই করছেন আনসালোত্তি। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কো ইসমেইল সাইবাড়ির গোলে এগিয়ে গিয়েছিল। সেলকাওদের সমতায় ফেরান ভিনিশিয়াস জুনিয়র। সেই ম্যাচ যদিও ড্র করেই মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। আর এবার রাউন্ড অফ ৩২-তে জাপানের বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েছিল ব্রাজিল। এরপর ক্যাসেমিরোর গোলে সমতা ফেরানোর পর, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনালির গোলে জয় পায় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।