LM10-এর ম্যাজিকে ফিকে হয়ে গেল পেনাল্টি মিসওমেসি এলেন, দেখলেন...জয় করলেন। আর্জেন্টাইন মহাতারকা, ফুটবল বিশ্বের রাজপুত্রের ক্ষেত্রে এখন সম্ভবত একথাই প্রযোজ্য। প্রতিটি ম্যাচেই তিনি মাঠে নামছেন আর যেন জাদুকাঠি ছুঁইয়ে একের পর এক রূপকথা লিখছেন। সোমবার অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধেও মাঠজুড়ে দেখা গেল মেসি ম্যাজিক। তবে চাঁদের যেমন কলঙ্ক থাকে, তেমনই মহানায়কের নামেও রইল পেনাল্টি মিসের 'চোনা'। তবে গোলের মুগ্ধতায় সেই 'চোনা' ঢেকে দিলেন LM10।
আগের ম্যাচের ধরন থেকেই অনুমান করা যাচ্ছিল, মেসিকে দিয়েই আক্রমণ শানাতে চাইছেন কোচ। সোমবার মাঠজুড়ে দেখা গেল লিওনেলকেই। ম্য়াচের প্রথমেই একটি পেনাল্টি পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা। নীল-সাদা স্ট্রাইকার মার্টিনেজকে একসঙ্গে জোড়া ট্যাকল করেন অস্ট্রিয়ার দুই ডিফেন্ডার। সেই পেনাল্টি নিতে গিয়েই 'ভুল' করে বসলেন মেসি। বল টার্গেটে রাখতে পারেননি ফুটবলের জাদুকর। পেনাল্টি মিস করে ফেলেন লিওনেল মেসি।
তবে কথাতেই রয়েছে, 'বড় বড় দেশে এমন ছোটোখাটো ভুল হয়েই থাকে'। পেনাল্টি মিসের ব্যর্থতা প্রথমার্ধেই ভুলিয়ে দেন এলএম ১০। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে ডান দিন থেকে আসা একটি মাইনাসকে নিখুঁত ভাবে গোলে প্লেস করে দেন আর্জেন্টাইন তারকা। ওই একটি গোলেই যেন পেনাল্টি মিসের দুঃখ ভুলে গিয়েছেন মেসি ফ্যানেরা।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য খেলার গতি কিছুটা বদলায়। শুধু রক্ষণ আগলে বসে না থেকে পালটা আক্রমণ শানানো শুরু করে অস্ট্রিয়াও। মাঝে মাঝে দু-একটা ভালো সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। যদিও পরিষ্কার সুযোগ অস্ট্রিয়া তৈরি করতে পারেনি। একটি ফ্রি-কিক থেকে কঠিন একটি সেভ করা ছাড়া আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজকে বিশেষ কিছু করতে হয়নি। উলটে গোটা দুই সুযোগ পায় নীল-সাদা ব্রিগেডই। যদিও তাতে গোল আসেনি। দ্বিতীয় গোলটির জন্য নীল-সাদা ব্রিগেডকে অপেক্ষা করতে হল একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। শেষদিকে গোটা অস্ট্রিয়া দল যখন গোল শোধের চেষ্টায় আক্রমণভাগে, তখন পালটা আক্রমণে অনবদ্য গোল করে গেলেন সেই মেসিই। বিশ্বকাপে এটি তাঁর ১৮তম গোল। লিওর ওই গোলই আর্জেন্টিনার নকআউট নিশ্চিত করে দিল
পরপর দুটি ম্যাচে দেখা গেল আর্জেন্টিনা শুধু মেসিময়। তবে লিওর ওই ম্যাজিক মোমেন্টগুলি বাদ দিলে-বাকি দল এদিন আহামরি ফুটবল খেলেনি নীল সাদা জার্সি। যা কিন্তু নজর রাখছেন বিপক্ষ দলের কোচেরাও।
ফুটবল বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করতে শুরু করেছেন, এই স্ট্র্য়াটেজি হিতে বিপরীত হতে পারে আর্জেন্টিনার জন্য। কারণ এরফলে গোলের স্বাদ না পাওয়া অন্য প্লেয়াররা প্রয়োজনে নিজেদের সেরা ফর্মে নাও ফিরতে পারেন। এছাড়াও, কখনও মেসির 'ব্যাড লাক' অ্যাক্টিভ হলে আর্জেন্টিনার পরিত্রাতা হবেন কে?
বিশেষ বিষয় হল এমন মেসি নির্ভর ফুটবল গত ১২-১৪ বছর আগে থেকেই খেলেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু সেই ফর্মুলায় বিশ্বকাপ জয় সম্ভব হয়নি। বরং গতবার অর্থাৎ ২০২২-এ মেসি টিমের চালিকা শক্তি থাকলেও, অন্য প্লেয়ারদের সেরাটা দেওয়ার মনোভাবেই বিশ্বকাপ গিয়েছে মেসিদের ঘরে। কিন্তু ২০২৬-এ ফের মেসি নির্ভর খেলা নকআউটে সমস্য়ায় ফেলতে পারে স্কালোনিকে।