
ইস্টবেঙ্গল ও কৃশানু দেএবারের আইএসএল-এর প্রথম দুই ম্যাচেই জয় পেয়েছে ইস্টবেঙ্গল। স্পোর্টিং দিল্লি এফসি-র বিরুদ্ধে ৪-১ জয়ের পর, লাল-হলুদ শীর্ষকর্তার মনে পড়ছে কৃশানু দে-র কথা। তাঁর সবচেয়ে কাছের পার্টনার বিকাশ পাঁজিও মনে করছেন যেভাবে খেলেছেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার মিগুয়েল ফিগুয়েরা তাতে তাঁর প্রিয় রন্টুকে মনে পড়ছে।
কেমন ছিলেন কৃশানু?
ভারতবর্ষের মারাদোনাকে নিয়ে অনেক গল্প রয়েছে। তবে সদ্য প্রকাশিত বই 'শেষ তারা কৃশানু' বইতে প্রাক্তন ফুটবলার মনোজিত দাসের লেখার কিছু অংশ পড়লেই বোঝা যায়, কত বড় ফুটবলার ছিলেন কৃশানু। তিনি লিখেছেন, 'এর্নাকুলাম-কোচিতে রেলের জুনিয়র ন্যাশনাল প্রতিযোগিতার আসর বসেছিল। কৃশানু ছিল দ্বৈত ভূমিকায়। একদিকে মাঝমাঠ সামলাচ্ছে। অন্যদিকে ও স্ট্রাইকার। আমি আবার একাধারে রাইট উইংগার ও স্ট্রাইকার। একটা মুহূর্ত খুব মনে পড়ে। আমি রাইট উইংয়ে দাঁড়িয়ে। আমাদের গোলের দিকে মুখ করে কৃশানু প্রতিপক্ষের দুই স্টপারের মাথার ওপর দিয়ে এমন একটা বল বাড়াল, আমার মনে হলো কোনো এক বিশ্বকাপারের সঙ্গে যেন আমি খেলছি। অত দূর থেকে ওভাবে কেউ যে বল বাড়াতে পারে, তা না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। ওরকম গোলের গন্ধ মাখা অবিশ্বাস্য পাস পেয়েও আমি কিন্তু গোল করতে পারিনি। কিন্তু যে ওরকম বল বাড়াতে পারে, যে আসল কারিগর, সে নির্বিকার। তার মুখে খেলা করেনি বিরক্তি, রাগ। এ পৃথিবীর কোনো কিছুই তাকে যেন স্পর্শ করে না। আমাকে পিঠ থাবড়া দিয়ে বলল, "মনা, আবার একটা পাস বাড়াব। তখন গোল করিস।'

এই ব্যবহার আগা গোড়া অটুট থেকেছে। ইস্টবেঙ্গল জার্সিতে প্রচুর গোল করিয়েছেন। ঠিক যেমনটা এখন দেখা যাচ্ছে এজ্জারাজি ও মিগুয়েল জুটির মধ্যে।

কেন চলছে তুলনা?
শনিবারের ম্যাচে গোলের জন্য একাধিক পাস বাড়িয়েছেন মিগুয়েল। নিজে গোল করার সুযোগ পেয়েছেন একেবারে শেষে। গোল করেছেন। তবে তার আগে ২টো অ্যাসিস্ট। যেভাবে এজ্জাজেরিকে দিয়ে দ্বিতীয় গোলটা করালেন, সেই পাস সোনায় বাঁধিয়ে রাখার মতো তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বেশকিছু সহজ সুযোগ সতীর্থরা নষ্ট না করলে অ্যাসিস্টের হ্যাটট্রিক হয়ে যেতেই পারত। আর সেই কারণেই বিকাশ পাঁজি বা দেবব্রত সরকারদের মনে হয়েছে তাঁদের দলে ফেরত এসেছেন কৃশানু।
অনেক শক্তিশালি ইস্টবেঙ্গল
ভারতের মারাদোনা কৃশানু যে সময় ফুটবল কেরিয়ারের মধ্য গগনে তখনকার ম্যাচের ভিডিও খুব বেশি পাওয়া যায় না। তাই সমকালীন ফুটবল অনুরাগী, ফুটবলার, কোচ না সাংবাদিকরাই ভরসা। তবে মিগুয়েল আর ইউসেফ এজ্জেজারির জুটি দেখে অনেকেই আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন। স্প্যানিশ তারকা ইতিমধ্যেই দুই ম্যাচে ৪ গোল করে ফেলেছেন। ফ্যানরা মনে করছেন সুদিন ফেরা সময়ের অপেক্ষা ইস্টবেঙ্গলের জন্য।
দলে সল ক্রেসপো, কেভিন সিবিলে, নাওরেম মহেশ সিং-এর না থাকা প্রায় কোনও প্রভাব ফেলছে না দলের খেলায়। রাকিপ অনুশীলন ম্যাচে চোট পেয়েছিলেন। শনিবার প্রথমবার মাঠে নামলেন তবে পরের দিকে। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে তৈরি হয়ে আইএসএল-এর লড়াইয়ে নেমেছে ইস্টবেঙ্গল। এখন নতুন কৃশানু-বিকাশ জুটি ক্লিক করে গেলে দীর্ঘদিনের খরা কাটবে ইস্টবেঙ্গলের।
তবে মাথায় রাখতে হবে মরসুম শুরু হয়েছে। সব ম্যাচেই পারফর্ম করতে হবে। এবারের লিগে একবার পিছিয়ে পড়লে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই খুব কঠিন।