মাদিহ তালালদুই ম্যাচ জয়ের পর হেরে গেল ইস্টবেঙ্গল। জামশেদপুর এফসি-র বিরুদ্ধে এগিয়ে গিয়েও ১-২ গোলে হেরে গেল লাল-হলুদ। অস্কার ব্রুজোর কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন থাকবে। কেন তিনি বিপিনকে তুলে নিলেন, কেন এজ্জাজারিকে তুলে ডেভিডকে নামালেন তিনি? কেনই বা দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে ডিফেন্সিভ ফুটবল খেলতে লাগল ইস্টবেঙ্গল? এই সব প্রশ্ন ধেয়ে আসবে তাঁর দিকে।
শুরু থেকে আক্রমণ করলেও, গোলমুখ খুলছিল না। শুরুতেই জয় গুপ্তা সুযোগ পান। বেশ কয়েকবার এডমুন্ড লালরিন্ডিকা বা মিগুয়েল ফেরেরারা সুযোগ তৈরি করলেও সয়বার্গ বা এজ্জেজারি গোল করতে পারেননি। সুযোগ পেয়ে বেশ কয়েকবার লাল-হলুদ ডিফেন্সে কাঁপন ধরিয়েছিল মাদিহ তালাল ও মেসি বাউলির দউড়। একবার গোলও পেয়ে গিয়েছিলেন মেসি। তবে অফ সাইডের কারণে তা বাতিল হয়।
ইস্টবেঙ্গলের গোল আসে ৪১ মিনিটে। গোল করেন এডমুন্ড। বাঁ দিক থেকে উঠে এসে দারুণ ক্রস করেন বিপিন সিং। প্রতীক চৌধুরী সেই বল ক্লিয়ার করতে মাথা ছোঁয়ালেও বল ক্লিয়ার হয়নি। তা সোজা গিয়ে পড়ে এডমুন্ডের পায়ে। সামনে থাকা মার্ককে সঙ্গে সঙ্গেই ঠান্ডা মাথায় কাটিয়ে সোজা গোলে শট করেন এডমুন্ড। গোলকিপার অ্যালবিনো গোমজের কিছু করার ছিল না। প্রথমার্ধে অস্কার ব্রুজোর মাস্টার স্ট্রোক অফ ফর্মে থাকা লালচুংনুঙ্গাকে তুলে রাকিপকে নামিয়ে দেওয়া। পাশাপাশি ম্যাচে শুরু থেকেই দলে নেই নন্দাকুমার।
তবে সেই চালই বুমেরাং হল দ্বিতীয়ার্ধে। পরপর কিছু ভাল পরিবর্তন করলেও, বিপিনকে তুলে নিলেন কেন সেটা অজানা। নন্দাকুমার প্রতি ম্যাচেই ভুল করছেন। প্রথম একাদশ থেকে বাদ দিলেও কেন ফের আনলেন অস্কার? এই সমস্ত সিদ্ধান্তই বদলে দেয় ম্যাচের পরিস্থিতি। শেষদিকে এজ্জেজারিকে তুলে নেওয়া আরও ভুল।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরত আসার চেষ্টা চালাচ্ছিল জামশেদপুর। ৬০ মিনিটে গোল পেয়ে যায় জামশেদপুর। প্রথমে মাদিহ তালাল গোলকিপার প্রভসুকান গিলকে একা পেয়েও শট ইস্টবেঙ্গল গোলকিপারের হাতে মারেন। এরপরেই সেটপিস থেকে স্টিফেন এজে। সেই সময় ম্যাচের আধিপত্য ছিল জামশেদপুরের দখলে। ৬৭ মিনিটে রাকিপের পাস থেকে গোলের সুযোগ পান এজ্জেজারি। তবে আলবিনো দারুণ সেভ করেন।
ম্যাচের শেষ লগ্নে গোল রেইতা চিকাওয়ার। চোখ ধাঁধানো শট। ডিফেন্স ছিন্নভিন্ন করে গোল করেন জাপানিজ ফুটবলার। তালাল ব্যাকহিল করে রেইতাচিকাওয়াকে বল দেন। জালের উপরের ডান কোণে লেগে যায় বল। ২-১ গোলে এগিয়ে যায় জামসেদপুর। এরপর আর ম্যাচে ফেরা সম্ভব হয়নি লাল-হলুদের। শেষদিকে ইস্টবেঙ্গল পরপর আক্রমণ করলেও ফল হয়নি।