Egypt World Cup Victory: মিশরের ৯২ বছরের অপেক্ষা শেষ, নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম জয় সালাহদের

বিশ্বকাপে ৯২ বছরের অপেক্ষার অবসান। নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারাল তারা। তৈরি হল নয়া ইতিহাস।

Advertisement
মিশরের ৯২ বছরের অপেক্ষা শেষ, নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম জয় সালাহদেরমিশরের প্রথম জয়
হাইলাইটস
  • বিশ্বকাপে ৯২ বছরের অপেক্ষার অবসান
  • নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারাল তারা
  • তৈরি হল নয়া ইতিহাস

মিশরের ফুটবল ইতিহাসে নয়া যুগের সূচনা। অবশেষে জয়ের মুখ দেখল ফারাওয়ের দেশ। ১৯৩৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার ৯২ বছর পর প্রথম জয়ের মুখ দেখল তারা।

যদিও ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের কাছে প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিল মিশর। তবে তারপর দূরন্তভাবে ফিরে ৩-১ গোলে ম্যাচ জিতে নেয় তারা। এরপরই গ্রুপ জি-এর শীর্ষে উঠে এসেছে মিশর। এই ঐতিহাসিক জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তারকা ফুটবলার মহম্মদ সালাহ।

এই ম্যাচে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েছিল দেশটি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে। মোস্তাফা জিকো, মহম্মদ সালাহ এবং পরিবর্ত হিসেবে নামা মাহমুদ ত্রেজেগুয়ের গোলে ম্যাচ জিতে নেয় তারা। আর এই জয়ে নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা বাড়ল মিশরের। পাশাপাশি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জয়ের অপেক্ষারও অবসান ঘটল।

ম্যাচের পর সালাহ বলেন, 'এটি সব খেলোয়াড়ের জন্য বিরাট বড় অর্জন। দারুণ একটি জয়। দলের পরিবেশও অসাধারণ। তবে পরের ম্যাচটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ।'

বিশেষজ্ঞদের মতে, মিশরের মানুষের জীবনে ফুটবল একটি বিশেষ আবেগের জায়গা। কিন্তু বিশ্বকাপে দীর্ঘদিন ধরেই জয় পায়নি দেশটি। হতাশা, ব্যর্থতা ও অপূর্ণ প্রত্যাশাই সঙ্গী হয়েছে তাদের। যদিও অবশেষে বহু বছরের স্বপ্ন বাস্তব রূপ নিল। এই ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়লেও দ্বিতীয়ার্ধে সেরা খেলা খেলে জয় পকেটে পুরে নিল মিশর।

এই জয় শুধুমাত্র তিন পয়েন্টের নয়, এটা একটা নতুন যুগের সূচনা। ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপের দল থেকে শুরু করে সালাহর নেতৃত্বাধীন বর্তমান দল, সবাই যেন এই মুহূর্তের অংশ হয়ে গেলেন। সময়ের ক্যানভাসে ফুটবলের জয় লিখে দেওয়া হল।

প্রসঙ্গত, দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে গ্রুপ জি-র শীর্ষে রয়েছে মিশর। প্রথম ম্যাচে তারা বেলজিয়ামের সঙ্গে ১-১ ড্র করেছিল। 

ম্যাচে কী হয়?
প্রথমার্ধে এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। কর্নার থেকে ডিফেন্ডার ফিন সুরম্যান হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন।

তবে বিরতির পর ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ৫৮ মিনিটে মহম্মদ হানির ডানদিক থেকে ভেসে আসা ক্রসে হেড করে সমতা ফেরান মোস্তাফা জিকো। এর মাত্র নয় মিনিট পর দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করেন সালাহ। ডানদিক দিয়ে এগিয়ে জিকোর সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান।

Advertisement

৮১ মিনিটে দ্বিতীয় গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন সালাহ। তাঁর ডিফ্লেক্টেড শট কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা পায় নিউজিল্যান্ড। সেই কর্নার থেকেই সালাহর অ্যাসিস্টে নিয়ার পোস্টে ডাইভিং হেডে গোল করেন পরিবর্ত ফুটবলার মাহমুদ ত্রেজেগুয়ে।

শেষদিকে ব্যবধান কমানোর মরিয়া চেষ্টা চালায় নিউজিল্যান্ড। কিন্তু লাভ হয়নি। শেষ বাঁশি বাজতেই স্টেডিয়াম জুড়ে উল্লাস শুরু।

ম্যাচ শেষে মিশরের কোচ হোসাম হাসান জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে স্টেডিয়াম প্রদক্ষিণ করেন। আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, 'আমার অনুভূতি মিশরের সাধারণ মানুষের মতোই। কারণ, আমিও তাঁদেরই একজন। যাঁরা এখানে এসেছে এবং যাঁরা মিশরে জেগে খেলা দেখেছে— সবাইকে আমি ভালোবাসি। স্টেডিয়ামটা যেন মিশরেই ছিল। সমর্থকেরা এমন পরিবেশ তৈরি করেছিল যেন আমরা কায়রো স্টেডিয়ামে খেলছি।'

POST A COMMENT
Advertisement