এমবোলোর লাল কার্ডম্যাচের তখন ৭২ মিনিট। পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনেইরো লাল কার্ড দেখানোর পর শিশুর মতো কাঁদছিলেন সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলো। লাল কার্ড দেখার সে ঘটনার পাঁচ মিনিট আগে ১–১ গোলে সমতা ফেরায় সুইজারল্যান্ড। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত এ ব্যবধান থাকলেও অতিরিক্ত সময়ে দুই গোল করে শেষ পর্যন্ত ৩–১ গোলের জয়ে সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা।
এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড মানে লাল কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে বেশ বিতর্ক হচ্ছে। প্রথম দেখায় মনে হয়েছিল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস বুঝি এমবোলোকে ফাউল করেছেন। হলুদ কার্ড দেখেন এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার। কিন্তু ভিএআর এরপরই হস্তক্ষেপ করে। বেশ কয়েকটি ভিডিও রিপ্লে খতিয়ে দেখা হয় এবং সেখানে স্পষ্ট ধরা পড়ে, পারেদেস কোনো ফাউল করেননি এমবোলোকে। বরং এমবোলো নিজেই ডাইভ দেন।
পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনহেইরো শুরুতে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে কার্ড দেখিয়েছিলেন, কারণ মনে হয়েছিল তিনি এমবোলোকে পা দিয়ে বাধা দিয়ে ফেলে দিয়েছেন। তবে ভিএআর মনিটরে দৃশ্যটি দেখার পর তিনি ঘটনাটি পর্যালোচনা করেন এবং নিজের আগের সিদ্ধান্তটি বদলে ফেলেন। রিপ্লেতে দেখা যায় যে, পারেদেসের কোনো স্পর্শ লাগার আগেই এমবোলো মাটিতে পড়ে গিয়েছিলেন; ফলে রেফারি বিষয়টিকে 'সিমুলেশন' বা ইচ্ছাকৃতভাবে পড়ে গিয়ে ফাউল আদায়ের চেষ্টা হিসেবে গণ্য করেন। ম্যাচের আগেই যেহেতু এই সুইস ফরোয়ার্ড একবার কার্ড দেখেছিলেন, তাই তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড এবং এরপর লাল কার্ড দেখানো হয়।
সাধারণ পরিস্থিতিতে কোনো খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেওয়ার জন্য ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) সুপারিশ করতে পারে না। তবে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘটনায় রেফারি ভুল করে ভুল দলের খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দিয়েছেন—এমন স্পষ্ট ভিডিও প্রমাণ থাকলে, সিদ্ধান্ত বদলানোর জন্য রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউ (মাঠের স্ক্রিনে গিয়ে পুনরায় দেখার) করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় ভিডিওতে এমবোলোর ডাইভ দেওয়ার প্রমাণ ছিল স্পষ্ট। তাই মাঠের স্ক্রিনে রিপ্লে দেখার পর রেফারিও ভিএআরের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হন এবং এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন।