লিওনেল মেসিআলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা (Argentina)। আর এই ম্যাচের পুরো আলো কেড়ে নিলেন Lionel Messi। ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক, ৩৮ বছর বয়সে, নিজের রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে। সবাই বলছেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে হ্যাটট্রিকটাই হয়ত তাঁর বাকি ছিল সেটাও এসে গেল বুধবারের সকালে।
প্রথমার্ধেই মেসি-ম্যাজিকের শুরু
ম্যাচের ৫ মিনিটেই অফসাইডে গোল বাতিল হয় মেসির। কিন্তু ১৭ মিনিটে আর আটকানো যায়নি। রদ্রিগো ডি পলের ডিফেন্স চেরা থ্রু বল ধরে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের ট্রেডমার্ক শটে টপ কর্নারে বল জড়ান মেসি। গোলকিপার লুকা জিদান হাতে ছোঁয়া পেলেও আটকাতে পারেননি। এই গোলের সঙ্গে সঙ্গে মেসি হয়ে যান প্রথম ফুটবলার যিনি ৫টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করলেন, আর বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৪। তবে সেখানেই থামেননি।
আসলে শুরু থেকেই আক্রমণে উঠে গোল তুলে নেওয়ার চেষ্টায় ছিল আলজিরিয়া। আর তা করতে গিয়েই ফাঁকা থেকে যান মেসি। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি বিশ্বফুটবলের রাজপুত্র। দূর থেকে শট করে গোল করার মুন্সিয়ানা যাদের রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হলে দ্রুত জায়গা ছোট করতে হয়। সেটা করতে পারেননি আলজিরিয়ার ডিফেন্ডাররা।
দ্বিতীয় গোল মেসির
৬০ মিনিটে আবার জ্বলে ওঠেন মেসি। যে সময়টা ধীরে ধীরে আলজিরিয়া ম্যাচে ফেরত আসার চেষ্টা চালাচ্ছিল, সেই সময়ই পাল্টা আঘাত। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের দূরপাল্লার শট জিদান ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বলে দ্রুত রিঅ্যাকক্ট করেন মেসি। ছোট্ট ট্যাপ-ইন, বল সোজা জালে। ততক্ষণে কানসাস সিটির গ্যালারি "Mes-si, Mes-si" গানে মুখরিত হচ্ছে। আলজেরিয়া তিনটি বদল করে। মাঠে আসেন রিয়াদ মাহরেজ, আউয়ার, আমোরা। তবে মেসি যদি ফর্মে থাকেন, তা হলে লাভ হয় না। আর সেটাই হয়েছে।
দ্বিতীয় গোলের ক্ষেত্রে মেসি ওত পাতা শিকারির মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন বক্সের ভেতরে। কিছু সময় আগেই তাঁর শট সেভ করতে গিয়ে তা ফস্কে যায় জিদানের হাত থেকে। সেটা মেসির নজর এড়ায়নি। সেকেন্ড বল ধরে গোল করার চেষ্টায় ছিলেন। আর সেটাই হয়েছে।
৭৬ মিনিট ইতিহাস গড়া হ্যাটট্রিক
৭৬ মিনিটে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বক্সের কিনারা থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে নিচের কোণায় বল রাখেন মেসি। ভিন্টেজ মেসি। এটাই ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক। এই গোলের সঙ্গে সঙ্গে মিরোস্লাভ ক্লোজের সর্বকালের বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড ১৬-তে ভাগ বসান মেসি। গোলের পর আঙুল উঁচিয়ে আকাশের দিকে ইশারা, চিরচেনা সেই উদযাপন। কে বলবে এটাই নাকি তাঁর লাস্ট ডান্স?
গোল খেয়ে ৩ ডিফেন্সে চলে যায় আলজিরিয়া। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করে যান মেসি। ফাঁকা জায়গা পেয়ে যাওয়ায়, এই সুপারস্টারকে কেউ ক্লোজ করার সুযোগ পাননি।