এঞ্জো ফার্নান্দেজসেমিফাইনালের লড়াইয়ে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। জিতলে ফাইনালে অপেক্ষা করছে স্পেন। 'অভিশপ্ত' নীল জার্সিতে কি ইতিহাস পাল্টাতে পারবেন লিওনেল মেসিরা? সেটাই বড় প্রশ্ন
আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দিলেন লাউতেরো
সমতা ফেরানোর পর আক্রমণের গতি আরও বাড়ায় আর্জেন্টিনা। ডান প্রান্ত থেকে বল নিয়ে দুর্দান্ত দক্ষতায় প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে এগিয়ে যান লিওনেল মেসি। এরপর তার ট্রেডমার্ক নিখুঁত ক্রস পৌঁছে যায় ইংল্যান্ডের বক্সের ভেতরে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে একটুও ভুল করেননি বদলি হিসেবে নামা লাউতারো মার্তিনেজ। ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে শক্তিশালী হেডে বল জালে পাঠান তিনি। জর্ডান পিকফোর্ডের কিছুই করার ছিল না।
সমতা ফেরালেন এঞ্জো
এঞ্জো ফার্নান্দেজের গোলে সমতা ফেরালো আর্জেন্টিনা। ৮৬ মিনিটে অসাধারণ এক দূরপাল্লার শটে দলকে সমতায় ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। আগেও দূর থেকে জর্ডান পিকফোর্ডকে পরীক্ষায় ফেলেছিলেন এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। তবে এবার আর কোনো সুযোগ দেননি। সামনে পর্যাপ্ত জায়গা পেয়ে শক্তিশালী শট নেন এনজো, বলটি বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও ঝাঁপিয়ে পড়া পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে জড়িয়ে যায় জালে।
গোল আর আর্জেন্টিনার মাঝে দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে পিকফোর্ড
জর্ডান পিকফোর্ডের দুর্দান্ত সেই সেভ। নিকো গঞ্জালেজের কাছ থেকে আসা প্রায় নিশ্চিত গোল অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ফিরিয়ে দিয়ে ইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রেখেছেন এই গোলরক্ষক। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে এমন এই সেভ এখন পর্যন্ত সেমিফাইনালের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।
গোল করে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড
অবশেষে ভাঙল অচলাবস্থা। দারুণ এক দলগত আক্রমণে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ চিরে বল পৌঁছে যায় অ্যান্থনি গর্ডনের কাছে। সুযোগ হাতছাড়া না করে ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ইংল্যান্ডের এই উইঙ্গার। তার গোলে ৫৫ মিনিটে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় থ্রি লায়ন্স, আর গ্যালারিজুড়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন ইংল্যান্ডের সমর্থকরা।
গোল হজম করার পর এখন ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠবে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে মূল্যবান এই লিড ধরে রেখে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। এখন দেখার বিষয়, আলবিসেলেস্তেরা কত দ্রুত জবাব দিতে পারে।
গোলশূন্য প্রথমার্ধ
প্রথমার্ধে রেফারিকে বেশ ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। একের পর এক ফাউলের মাঝে ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসন এবং আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ হলুদ কার্ড দেখেছেন। তবে এত উত্তেজনার মধ্যেও কোনো দলই গোলের জাল খুঁজে পায়নি। ফলে বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং গোলের আশায় মাঠে ফিরবে দুই দল।
রিস জেমসের আক্রমণে অল্পের জন্য রক্ষা পেল আর্জেন্টিনা
ম্যাচের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিপজ্জনক আক্রমণটি গড়ে তোলে ইংল্যান্ড। দ্রুত পাসের সমন্বয়ে ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে নিচু ক্রস পাঠান রিস জেমস। তবে সময়মতো সামনে এগিয়ে এসে বলটি নিরাপদে তালুবন্দি করেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক।
আবারও ফাউল, রেফারির বাঁশির শিকার সিমিওনে
১৬ মিনিটে আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড জিওভান্নি সিমিওনে আবারও ফাউল করে বসেছেন। বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে সময়মতো চ্যালেঞ্জ করতে না পেরে ইংল্যান্ডের এক খেলোয়াড়কে পিছন থেকে আঘাত করেন তিনি। এতে সঙ্গে সঙ্গেই খেলা থামিয়ে ফাউলের বাঁশি বাজান রেফারি এবং ইংল্যান্ডকে ফ্রি কিকের সুযোগ দেন। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণভাগে আগ্রাসী ফুটবল খেলতে গিয়ে একাধিকবার ফাউল করেছেন সিমিওনে। ফলে রেফারির নজরও এখন তার ওপর রয়েছে। অন্যদিকে এই ফ্রি কিকের সুবাদে ইংল্যান্ড আবারও নিজেদের আক্রমণ সাজানোর সুযোগ পেল।
উত্তপ্ত ম্যাচ, খেলোয়াড়দের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা
ম্যাচের উত্তেজনা এবার ছড়িয়ে পড়ল খেলোয়াড়দের মধ্যেও। মাঝমাঠে ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে দেরিতে ট্যাকল করে ফাউল করেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। ফাউলের পর মাটিতে পড়ে যাওয়া অ্যান্ডারসন উঠে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজকে ধরে রাখলে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে মুহূর্তের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।