
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ (FIFA World Cup 2026) যতটা জাঁকজমকপূর্ণ হওয়ার কথা ছিল, ততটা হল না। বিতর্ক পিছু ছাড়ল না। মেক্সিকো সিটির (Mexico City) ঐতিহাসিক আজটেকা স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং আয়োজক মেক্সিকোর (Mexico) বিজয় উদযাপন চললেও, খালি আসন, টিকিটের চড়া দাম এবং হিংসাত্মক বিক্ষোভ ফিফার (FIFA) সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেয়।
টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে গুয়াদালাহারায় মুখোমুখি হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া ও চেকিয়া। ম্যাচ চলাকালীন টিভি সম্প্রচারে স্টেডিয়ামের অনেক অংশে, বিশেষ করে ভিআইপি বিভাগে, বিপুল সংখ্যক খালি আসন দেখা যায়। স্টেডিয়ামের ঘোষক দাবি করেন যে ৪৫, ৬৬৪ আসন-ক্ষমতার স্টেডিয়ামটিতে ৪৪,৯৮৫ জন দর্শক উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু সম্প্রচারিত চিত্র ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে।
ফিফা জানায়, মাত্র ৭০০টির মতো আসন খালি ছিল, কিন্তু দৃশ্যে আরও বড় একটি শূন্যতা দেখা যায়। ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া ২-১ গোলে চেকোস্লোভাকিয়াকে পরাজিত করে দুর্দান্তভাবে প্রত্যাবর্তন করে, কিন্তু ম্যাচের চেয়ে খালি আসনগুলো নিয়েই বেশি আলোচনা হয় বলে ডেইলি মেইল জানিয়েছে।

ফিফার দাবি প্রশ্ন তুলেছে
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এপ্রিলে দাবি করেন যে টুর্নামেন্টটির জন্য ৫০ কোটি টিকিটের আবেদন পাওয়া গিয়েছে। তাঁর মতে, এই সংখ্যাটি আগের দুটি বিশ্বকাপের জন্য পাওয়া সম্মিলিত ৫ কোটি টিকিটের আবেদনের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি। তবে, প্রকৃত পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোর স্টেডিয়ামগুলোতে আরও বেশি দর্শক টানার জন্য ফিফাকে অনেক ম্যাচের টিকিটের দাম কমাতে হয়েছিল।
ভক্তরা ক্রমবর্ধমানভাবে অভিযোগ করছেন যে, এমনকি কম জনপ্রিয় গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর টিকিটও ৩০০ ডলারের বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফিফার অফিসিয়াল পুনঃবিক্রয় পোর্টালে এখনও হাজার হাজার টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি লস অ্যাঞ্জেলেসে আমেরিকা ও প্যারাগুয়ের ম্যাচের টিকিটও অবিক্রিত রয়েছে।
খালি আসনের গুঞ্জন সত্ত্বেও, মেক্সিকো সিটির আজটেকা স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী ম্যাচটি বিপুল সমর্থন লাভ করে। ৮৩,২৬৪ আসন বিশিষ্ট স্টেডিয়ামটি কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। মেক্সিকো ২-০ গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে পরাজিত করে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান দুর্দান্তভাবে শুরু করে। ম্যাচটি ২০১০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের কথা মনে করিয়ে দেয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগেই বিক্ষোভ
বিশ্বকাপের প্রথম দিনের সবচেয়ে বড় বিতর্কটি স্টেডিয়ামের বাইরে ঘটে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী মেক্সিকো সিটির রাস্তায় নেমে আসেন। বেশ কয়েকটি স্থানে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। কিছু কিছু জায়গায় পেট্রোল বোমা ও ইট ছোড়ার খবরও পাওয়া গিয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, একই সময়ে আর্টটি পৃথক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে শিক্ষক ইউনিয়ন, বিচার বিভাগীয় কর্মী গোষ্ঠী, পরিবহন সংস্থা এবং মানবাধিকার কর্মীরা অংশ গ্রহণ করেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো মেক্সিকোতে নিখোঁজ ব্যক্তির ক্রমবর্ধমান সমস্যার বিষয়টিও তুলে ধরেছে। মেক্সিকোর জাতীয় নিবন্ধন অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে ১,৩৪,৪৬০ জন নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন।