ফিফা বিশ্বকাপজুন মাস থেকে শুরু হচ্ছে এবারের ফিফা বিশ্বকাপ। তবে সেই বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার ৩ মাস আগে বড় বিপর্যয়। নাম প্রত্যাহার করে নিল ইরান। আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের জেরে এই সিদ্ধান্ত বলে জানা যাচ্ছে। এবারের বিশ্বকাপের আয়োজক আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকো। কিছুদিন ধরেই এ নিয়ে গুঞ্জন চলছিল। মনে করা হচ্ছিল ইরান হয়ত এই পদক্ষেপ নিতে পারে। আর সেই আশঙ্কাই সত্যি হল বুধবার।
এশিয়ান বাছাইপর্বে গ্রুপ এ-তে শীর্ষে থাকার পর ইরান বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করে। সূচি অনুসারে, তারা বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড এবং মিশরের সঙ্গে গ্রুপ জি-তে রয়েছে। ইরানের দুটি ম্যাচ লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, এবং তৃতীয়টি সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হবে।
তবে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের জেরে ইরানের অংশগ্রহণ অনেকটাই অনিশ্চিত ছিল। কিছুদিন আগেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, বিশ্বকাপে ইরানের খেলতে আসতে কোনও অসুবিধা হবে না। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ট্রাম্পের সঙ্গে এর ব্যাপারে বৈঠক করেন। ফিফা প্রেসিডেন্ট আশ্বাস দেন, 'আলোচনার সময় ট্রাম্প বলেছেন, ইরান দল বিশ্বকাপে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে এলে তাদের স্বাগত জানানো হবে। তাঁর মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় ক্রীড়া আসর মানুষকে একত্রিত করার সুযোগ তৈরি করে, বিশেষ করে এমন উত্তেজনাপূর্ণ বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে।'
কী জানাল ইরান?
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইরানের মন্ত্রী বলেন, 'এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে এই বিবেচনায়, কোনও অবস্থাতেই আমরা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারি না।' দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, 'ইরানের বিরুদ্ধে আট মাসের মধ্যে দুইবার যুদ্ধ করেছে আমেরিকা। আমাদের হাজার হাজার শিশুসহ নাগরিকদের খুন করেছে তারা। তাই আমরা এই বিশ্বকাপে খেলতে যাব না।'
গ্রুপ পর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার কথা। ১৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার ইনগলউডে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে তারা। এরপর ২১ জুন একই শহরে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে ইরান। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে। এই যুদ্ধের আবহে বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রীতির বার্তা দেবে বলে জানিয়েছিলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট। তবে সেই আশ্বাসেও কাজ হল না।