এলি ওয়াহিফিফা বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) চলাকালীন আইভরি কোস্ট বড় ধাক্কা খেয়েছে। তারকা স্ট্রাইকার এলি ওয়াহিকে (Elye Wahi) কানাডায় জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ফ্রান্সে সন্দেহজনক ম্যাচ ফিক্সিং এবং জুয়া সংক্রান্ত কার্যকলাপের জন্য তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
আইভরি কোস্ট ফুটবল ফেডারেশন (এফআইএফ) বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে যে ওয়াহি দলের সঙ্গে কানাডা সফরে যেতে পারবেন না। ফেডারেশনের মতে, খেলোয়াড়টি কানাডায় প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ছাড়পত্র এখনও পাননি। তাই, তিনি টরন্টোতে শনিবার জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচে অংশ নিতে পারবেন না। ২৩ বছর বয়সী ওয়াহি সোমবার ফিলাডেলফিয়ায় ইকুয়েডরের বিপক্ষে আইভরি কোস্টের প্রথম একাদশে জায়গা পেয়েছিলেন, যে ম্যাচে আইভরি কোস্ট ১-০ গোলে জয়লাভ করে। দলের ফেরা পর্যন্ত তিনি এখন আমেরিকাতেই থাকবেন।
আইভরিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (Ivorian Football Federation) পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার এই খবর জানানো হয়েছে। দলের সবার সঙ্গে কানাডায় যেতে না পেরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (USA) ফিলাডেলফিয়ায় (Philadelphia) আইভরি কোস্টের শিবিরেই রয়ে গিয়েছেন ওয়াহি। সেখানেই তিনি অনুশীলন করছেন। এই স্ট্রাইকারকে না পাওয়ায় জার্মানির বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে সমস্যায় আইভরি কোস্ট শিবির।
ফরাসি পুলিশ জানিয়েছে, ওয়াহিকে গ্রেফতার করার পর জেরা করা হয়। এরপর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তদন্ত চলছে। প্রতারণা, জালিয়াতির অভিযোগের প্রমাণ পেলে এই ফুটবলারকে ফের গ্রেফতার করা হতে পারে।
২৯ মে ফরাসি পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখা (French Anti-corruption Police) এই ফুটবলারকে গ্রেফতার করে। মার্সেইয়ের (Marseille) পাবলিক প্রসিকিউটরের দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াহির বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, খেলার মাঠে দুর্নীতি, চুরি যাওয়া জিনিসপত্র নিজের কাছে রাখা এবং অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে। এই কারণেই তাঁকে কানাডায় প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
মার্সেইয়ের প্রসিকিউটর অফিস অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছে যে, ফ্রান্সের শীর্ষ লীগে খেলা ২৩ বছর বয়সী পেশাদার ফুটবলারকে তদন্তের অংশ হিসেবে ২৯ মে, ২০২৬ তারিখে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তবে, আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তার ছাড়াই জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। প্রসিকিউটরের কার্যালয় অনুসারে, এই তদন্তে সংঘবদ্ধ জালিয়াতি, সংঘবদ্ধ ক্রীড়া দুর্নীতি, চোরাই সম্পত্তি গ্রহণ এবং অর্থ পাচারের মতো সম্ভাব্য অপরাধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তদন্তটি চলায় এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।