
এখনও বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) আগে ট্রেনিং সেশনে যোগ দেননি ব্রাজিল (Brazil) তারকা নেইমার (Neymar Jr)। তবে মরোক্কর (Morocco) বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে তিনি খেলবেন কিনা তা নিয়ে জল্পনা চলছেই। নেইমার জুনিয়র সম্ভবত তাঁর শেষ বিশ্বকাপ খেলছেন। ফলে ফিট হওয়ার মরিয়া চেষ্টা যে তিনি চালাবেন তা বলাই বাহুল্য। ফলে ফ্যানদের মনে প্রশ্ন, তিনি কি আদৌ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নামতে পারবেন?
কী আপডেট পাওয়া যাচ্ছে?
নেইমার দীর্ঘদিন ধরেই চোটের কবলে। তবে স্যান্টোসের হয়ে তাঁর দারুণ পারফরম্যান্স দলে জায়গা করে দিয়েছে। যদিও এরপর অনুশীলনে ফের চোট পেয়েছেন। মরোক্কোর বিরুদ্ধে তাঁর খেলা নিয়ে অনেকটাই সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবে সূত্রের খবর, দ্রুত তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে তিনি ১০০ শতাংশ সুস্থ হয়ে মাঠে নামতে পারেবন কিনা সেটা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। প্রসঙ্গত নেইমার এই দলের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।
কঠিন ম্যাচ দিয়ে শুরু ব্রাজিলের অভিযান
ব্রাজিলের গ্রুপ দেখে আপাতভাবে লড়াইটা সহজ বলে মনে হলেও, আদতে কিন্তু তা নয়। মরক্কো দলটা গত কয়েক বছরে দারুণ উন্নতি করেছে। কাতার বিশ্বকাপে তাঁরা সেমিফাইনালে উঠে গিয়েছিল। সেই সময় সকলেই প্রায় চমকে গিয়েছিলেন মরক্কোর এই উত্থান দেখে। এবারের বিশ্বকাপে নামার আগে ব্রাজিল দলকে খুব সতর্ক থাকতে হবে। এবারের টুর্নামেন্টে তাঁরা অন্যতম শক্তিশালী প্রতিযোগী। হেড কোচ কার্লো আনচেলোত্তির অধীনে ব্রাজিলও টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট । ইস্ট রাদারফোর্ডের মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটের আলোয় এই দুই দলের যেকোনো একটির জয়ই হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রাজিল দলের শক্তি কতটা?
গোলের সুযোগ তৈরি করা এবং গোল করা ব্রাজিলের জন্য সম্ভবত কোনও বড় সমস্যা হবে না। আক্রমণভাগে তাদের যে প্রতিভার ভাণ্ডার রয়েছে, তা খুব কম দলই টেক্কা দিতে পারে। দলের মেরুদণ্ডও যথেষ্ট শক্তিশালী। বিশেষ করে রক্ষণভাগে বিশ্বের সেরাদের মধ্যে থাকা দুইজন সেন্টার-ব্যাক ব্রাজিলকে বাড়তি নিরাপত্তা দিচ্ছেন। এছাড়া ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনসেলোত্তি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা কোচ হিসেবে পরিচিত। খেলোয়াড়দের সঠিকভাবে পরিচালনা করার দক্ষতা (ম্যান-ম্যানেজমেন্ট) এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল বদলানোর তাঁর নমনীয় ফুটবল দর্শন ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জন্য নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে।
ব্রাজিলের দুর্বলতাগুলি কী কী?
দক্ষিণ আমেরিকার একমাত্র টিম ব্রাজিল, যারা কোয়ালিফাইং স্টেজে ৬ বার হেরেছে। এর আগের ২০ বছরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব মিলিয়ে ব্রাজিল মোটে পাঁচটি ম্যাচে পরাজিত হয়েছিল। অর্থাৎ, এবারকার বাছাইপর্বেই তারা গত দুই দশকের সম্মিলিত হারের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। তবে চোটের কারণে শেষ মুহূর্তে দলে পরিবর্তন এনে এডারসনকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে কোচ আনসেলোত্তি সেই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করার চেষ্টা করেছেন। তবুও কিছু ফুটবল বিশ্লেষক ও সমালোচকের মতে, ব্রাজিলের স্কোয়াডে এখনও ভারসাম্যের অভাব রয়েছে। তাঁদের দাবি, আক্রমণভাগে বিপুল প্রতিভা থাকলেও দলের বিভিন্ন বিভাগে শক্তির বণ্টন সমান নয়।
গ্রুপ লিগে ব্রাজিলের সূচি
২০০২ সালে শেষবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া ব্রাজিল (Brazil) এ বার রয়েছে গ্রুপ C-তে। তাদের সঙ্গে রয়েছে মরক্কো (Morocco), হাইতি (Haiti) ও স্কটল্যান্ড (Scotland)। অর্থাৎ তুলনামূলকভাবে সহজ গ্রুপে রয়েছে তারা। ব্রজিলের তিনটে ম্যাচই হবে আমেরিকায় (USA)।
১৪ জুন, রবিবার: ব্রজিল বনাম মরক্কো, মেটলাইফ স্টেডিয়াম, নিউ জার্সি, রাত সাড়ে তিনটে
২০ জুন, শনিবার: ব্রজিল বনাম হাইতি, লিনকন ফিনান্সিয়াল ফিল্ড, ফিলাডেলফিয়া, ভোর সাড়ে ৬টা
২৫ জুন, বৃহষ্পতিবার: ব্রজিল বনাম স্কটল্যান্ড, হার্ড রক স্টেডিয়াম, মায়ামি, রাত সাড়ে তিনটে