
ফুটবল মাঠে তিনি তারকা, মাঠের বাইরে যেন একেবারে সিনেমার সুপারহিরো। শৈশবের কল্পনার জগৎকে বাস্তবে রূপ দিলেন ব্রাজিলীয় ফুটবল মহাতারকা নেইমার। মিলিয়ন ডলারের ব্যাটমোবাইল ও ব্যাটকপ্টার নিয়ে নিজের ‘সুপারহিরো জীবন’-এর স্বপ্ন পূরণ করলেন তিনি।
নেইমারের বিলাসবহুল জীবনযাপন নতুন কিছু নয়। তবে এবার তিনি ছুঁলেন কল্পনার একেবারে চূড়ান্ত স্তর। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কাস্টম-মেড ব্যাটমোবাইল প্রকাশ্যে এনেছেন নেইমার। এটি কোনও সাধারণ রাস্তায় চলা গাড়ি নয়, বরং একেবারে সংগ্রহযোগ্য (collector’s item)। খবর অনুযায়ী, প্রায় ১৩ লক্ষ পাউন্ড খরচ করে তৈরি এই ব্যাটমোবাইল বানাতে সময় লেগেছে প্রায় তিন বছর। ৫০ জনের একটি বিশেষ দল এই প্রকল্পে কাজ করেছে। সিনেমার ব্যাটমোবাইলের আদলে তৈরি এই গাড়িটি রাস্তায় চালানোর অনুমতি না পেলেও, নেইমারের কাছে তা কোনও বাধা নয়। তাঁর কথায়, 'স্বপ্ন সত্যি হতেই পারে।'
এই ব্যাটমোবাইল রাখা হয়েছে নেইমারের ব্যক্তিগত গ্যারেজে, যেখানে আগেই রয়েছে তাঁর বিখ্যাত ‘ব্যাটকপ্টার’। এই হেলিকপ্টারের বাজারদর আনুমানিক ১৪ মিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি রয়েছে কালো রঙের প্রাইভেট জেট, ডাসল্ট ফ্যালকন ৯০০এলএক্স, যার দাম প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে শুধুমাত্র ব্যাটম্যান-থিমের এই সংগ্রহের মূল্যই দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৬৫ মিলিয়ন ডলার। উল্লেখযোগ্যভাবে, ব্যাটমোবাইলটি সাও পাওলোর ড্রিম কার মিউজিয়াম থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় নেইমারের বাড়িতে আনা হয়েছে। শখের গাড়ি থেকে কাস্টম চপার, তাঁর গ্যারেজ কার্যত এক ব্যক্তিগত মিউজিয়ামে পরিণত হয়েছে।
তবে বিলাসের আড়ালেও মাঠের বাস্তবতা কঠিনই রয়ে গেছে। সম্প্রতি শৈশবের ক্লাব স্যান্টোসের সঙ্গে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চুক্তি বাড়িয়েছেন নেইমার। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্লাবে ফিরে এসে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাঁচটি গোল করে দলকে শীর্ষ লিগে টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা নিয়েছেন তিনি। যদিও চোট এখনও তাঁর পিছু ছাড়েনি। গত মাসেই হাঁটুর অস্ত্রোপচার হয়েছে। ২০২৩ সালের পর জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁকে আর দেখা যায়নি। তবু বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন ছাড়তে নারাজ নেইমার।
বারবার পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়ানোর মানসিকতা, ঠিক ব্যাটম্যানের মতোই আজও তাঁকে লড়াই চালিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করছে। মাঠে তিনি ফুটবল তারকা, আর মাঠের বাইরে নেইমার যেন বাস্তবের এক ‘সুপারহিরো’।