জার্মানি দলব্রাজিলের পর কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়ল জার্মানি। বিশ্বকাপে গোল সংখ্যার বিচারে ব্রাজিলকে ছাপিয়ে গেল চারবারের চ্যাম্পিয়নরা। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপে দারুণ শুরু করল জার্মানি।
এই ম্যাচটা কেবল স্কোরের জন্য নয়, ইতিহাসের জন্যও মনে থাকবে। কুরাসাও — জনসংখ্যা মাত্র প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার — বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে মূলপর্বে খেলতে নেমেছে। ডিক অ্যাডভোকাটের কোচিংয়ে 'ব্লু ওয়েভ' নামে পরিচিত দলটি প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে পা রাখল।
শুরুতে সবাই ভেবেছিল জার্মানি সহজেই এগিয়ে যাবে, এবং তারা এগিয়েও গিয়েছিল। কিন্তু ২১ মিনিটে ঘটে চমক — লিভানো কোমেনেন্সিয়া দুর্দান্ত ফিনিশে জার্মান ডিফেন্স ভেঙে সমতা আনেন। এটাই ছিল কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোল, এবং মুহূর্তের জন্য হিউস্টন স্তব্ধ হয়ে যায়।
তবে জার্মান মেশিন বেশিক্ষণ থামেনি। ইউলিয়ান নাগেলসমানের দল দ্রুত ছন্দে ফেরে। প্রথমার্ধেই ফেলিক্স এনমেচা, নিকো শ্লটারবেক এবং কাই হাভার্টজ গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন। হাভার্টজের প্রথম গোলটি ছিল ঠান্ডা মাথার পেনাল্টি, দ্বিতীয়টি বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের কার্লার।
দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানি আরও নিষ্ঠুর। জামাল মুসিয়ালা মাঝমাঠ থেকে একক দৌড়ে চতুর্থ গোল করেন, এরপর অভিষিক্ত ন্যাথানিয়েল ব্রাউন হেডে পঞ্চম। ডেনিজ উন্দাভ শেষ দিকে দুটি গোল করে ব্যবধান সাত-এ নিয়ে যান। সব মিলিয়ে হাভার্টজ জোড়া গোল করেন, জার্মানি ৭-১ জয় নিশ্চিত করে।
নাগেলসমানের জন্য এটি ছিল বিশ্বকাপে প্রধান কোচ হিসেবে প্রথম ম্যাচ, এবং তিনি তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে দল সাজিয়েছিলেন — ম্যানুয়েল নয়ারের প্রত্যাবর্তন, মুসিয়ালা-ভির্টজের সৃজনশীলতা, আর নতুনদের আত্মবিশ্বাস সবই দেখা গেল। জার্মানি এর আগে ১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০ ও ২০১৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, এবার ২১তম আসরে এসেছে দশম র্যাঙ্কিং নিয়ে।
কুরাসাও হারলেও মাথা উঁচু করেই মাঠ ছেড়েছে। প্রথম গোল, প্রথম পয়েন্টের লড়াই, এবং ৯০ মিনিট জুড়ে লড়াকু মনোভাব — ১ লাখ ৬০ হাজারের দেশের জন্য এটা বিশাল অর্জন। তাদের পরের ম্যাচ ২০ জুন ইকুয়েডরের বিপক্ষে কানসাস সিটিতে।
জার্মানির জন্য বার্তা পরিষ্কার: ২০১৮ ও ২০২২-এর গ্রুপ পর্বের বিদায়ের দুঃস্বপ্ন ঝেড়ে তারা ফিরেছে গোলের ক্ষুধা নিয়ে। ৭-১ ব্যবধানটা ২০১৪ সালের ব্রাজিলকে হারানোর সেই বিখ্যাত স্কোরলাইনকেও মনে করিয়ে দিল।