৩৯ বছর বয়সেও নোভাক জোকোভিচ এবং লিওনেল মেসি প্রতিকূলতাকে জয় করে চলেছেন।২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের ঠিক আগের দিন ক্রীড়াবিশ্ব এক অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো। ফুটবল ও টেনিসের দুই অবিসংবাদিত রাজা—আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসি এবং ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক সার্বিয়ান কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচ মুখোমুখি হয়েছিলেন নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে আয়োজিত বিশেষ 'Fanatics Fest' অনুষ্ঠানে।
সেখানে চিরাচরিত সাংবাদিকদের পরিবর্তে মেসির মুখোমুখি হয়ে প্রশ্নকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন স্বয়ং জোকোভিচ। দুই কিংবদন্তির এই কথোপকথন মুহূর্তের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের হৃদয়ে ঝড় তুলেছে।
জোকোভিচের সেই বিশেষ প্রশ্ন
টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার প্রস্তুতি নেওয়া ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসিকে সামনে পেয়ে জোকোভিচ তার চিরচেনা টেনিস কোর্টের সার্ভের মতোই একটি মোক্ষম প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন। নিজের মানসিক দৃঢ়তার জন্য বিখ্যাত জোকোভিচ কৌতূহলী হয়ে মেসিকে জিজ্ঞাসা করেন, "লিও, তুমি ক্যারিয়ারজুড়ে এই অনন্ত ও আকাশচুম্বী চাপ কীভাবে সামাল দাও? চাপের মুখেও নিজের খেলার সহজাত দক্ষতা ও শান্ত ভাব একই স্তরে বজায় রাখার রহস্যটা ঠিক কী? "
মেসির দার্শনিক ও মনকাড়া জবাব এখন ভাইরাল। অত্যন্ত বিনম্র ও দার্শনিক ভঙ্গিতে মেসি যে উত্তর দিয়েছেন, তা শুধু ফুটবল নয়, যেকোনো খেলার জন্য এক বড় শিক্ষা। মেসি বলেন, "আমি চাপ নিয়ে কখনো খুব বেশি চিন্তা করি না। বিষয়টাকে আমি সবসময় অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেছি। আমরা যখন শৈশবে স্কুলে, রাস্তায় বা পাড়ার দলে ফুটবল খেলা শুরু করেছিলাম, তখন আমাদের মনে কোনো চাপ ছিল না। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল খেলাটাকে মন থেকে উপভোগ করা।'
মেসি আরও যোগ করে বলেন, "আমরা প্রতিযোগিতা করতে এবং জিততে ভালোবাসি, এটি সত্য। আমরা সবসময় মাঠে নামি জয়ের উদ্দেশ্যে। কিন্তু আমাদের এটাও মাথায় রাখতে হয় যে, প্রতিপক্ষ দলটিও জয়ের জন্যই খেলছে এবং খেলায় সবসময় জেতা সম্ভব নয়। খুব ছোটবেলা থেকেই আমি একটি কঠিন সত্য অনুধাবন করেছি এবং শিখেছি যে, জীবনে জয়ের চেয়ে হারের সংখ্যাই বেশি হয়। এই গভীর উপলব্ধিটিই আমাকে একজন মানুষ এবং একজন খেলোয়াড় হিসেবে পরিপক্ব হতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে।"দুই সেরার পারস্পরিক শ্রদ্ধা মেসির এই উত্তর শুধু জোকোভিচকেই মুগ্ধ করেনি, বরং অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থাকা বাস্কেটবল তারকা কেভিন ডুরান্ট এবং এনএফএল কিংবদন্তি টম ব্র্যাডির মতো অন্যান্য ক্রীড়াবিদদেরও আপ্লুত করেছে।
নিজের খেলায় মেসি যেভাবে মাঠের চারপাশ পর্যবেক্ষণ করেন এবং হেঁটে হেঁটেই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন, তা নিয়েও জোকোভিচ তাঁর মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। অপরদিকে মেসিও জোকোভিচের কোর্টের ভেতরের ইস্পাতকঠিন মানসিকতার প্রশংসা করেন। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনাল মহাযুদ্ধের আগে দুই খেলার দুই 'সর্বকালের সেরা' বা গোট (GOAT)-এর এই মেলবন্ধন ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম সেরা একটি ফ্রেম হয়ে থাকবে। মেসির এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, অতিমানবীয় সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে থাকে ব্যর্থতাকে মেনে নেওয়ার এক অনন্য মানসিকতা এবং খেলাটির প্রতি নিখাদ ভালোবাসা।