চেক বাউন্স বিতর্কের জের, মহমেডানের সভাপতি পদ থেকে সরানো হল হুমায়ুনকে

গত জুন মাসে মহমেডান ক্লাবের সভাপতি হয়েছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। দু'মাসের মধ্যেই সেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল হুমায়ুনকে। সেইসঙ্গে সাদা-কালো শিবিরের ইতিহাসে সব চেয়ে কম সময়ের জন্য প্রেসিডেন্ট থাকার নজির গড়লেন হুমায়ুন কবীর।

Advertisement
চেক বাউন্স বিতর্কের জের, মহমেডানের সভাপতি পদ থেকে সরানো হল হুমায়ুনকেমহমেডানের সভাপতি পদ থেকে সরানো হল হুমায়ুনকে

গত জুন মাসে মহমেডান ক্লাবের সভাপতি হয়েছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। দু'মাসের মধ্যেই সেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল হুমায়ুনকে। সেইসঙ্গে সাদা-কালো শিবিরের ইতিহাসে সব চেয়ে কম সময়ের জন্য প্রেসিডেন্ট থাকার নজির গড়লেন হুমায়ুন কবীর। 

প্রসঙ্গত, গত ৬ জুন ক্লাবের দায়িত্ব নেওয়ার সময়ই বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। বেলছিলেন, মহামেডানের সমস্ত আর্থিক সংকট দূর করে দেবেন তিনি। কিন্তু সমাধান হওয়া তো দূর অস্ত, উল্টে তাঁর দেওয়া চেক বাউন্স করার অভিযোগে ওঠে। সূত্রের খবর, হুমায়ুন কবীরের ইস্যু করা তিনটি চেক বাউন্স করে।  হুমায়ুন কবীর ১৭ জুলাই, ২০ জুলাই এবং ৩০ জুলাই ৫০ লক্ষ টাকা করে মোট তিনটি চেক ইস্যু করেছিলেন। কিন্তু তিনটিই ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার পর বাউন্স করে বলে অভিযোগ।  সেই আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগে হুমায়ুন কবীরকে সম্প্রতী কড়া আইনি নোটিস পাঠিয়েছিল মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব কর্তৃপক্ষ।  ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিশ্রুতি মতো টাকা না মেটালে বিধায়কের বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি জোড়া মামলা দায়ের করা হবে বলে সাফ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। তার আগেই অবশ্য  মহমেডান স্পোটিং ক্লাবের মসনদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল হুমায়ুনকে। 

এদিকে হুমায়ুন কবীর দাবি করেছিলেন, ক্লাবের স্বার্থেই চেক দেওয়া হয়েছিল এবং কয়েক দিনের মধ্যেই তা ক্লিয়ার হয়ে যাবে। তাঁর দাবি, ট্রান্সফার ব্যানের বিষয়টি মেটাতে ক্লাব সচিব ইতিমধ্যেই ফিফার কাছে অতিরিক্ত সময় চেয়ে নিয়েছেন। একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, তাঁর অনুমতি ছাড়াই নির্ধারিত সময়ের আগে চেক জমা দেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। অন্যদিকে, ক্লাবের সহ-সভাপতি ওয়াসিম আক্রম দাবি করেন, সভাপতি যে তিনটি চেক দিয়েছিলেন, তিনটিই ব্যাঙ্ক থেকে ফেরত এসেছে। তাঁর কথায়, হুমায়ুন কবীর যে তারিখে চেক জমা দিতে বলেছিলেন, সেই দিনেই তা জমা দেওয়া হয়েছিল এবং তখনই ব্যাঙ্ক জানায় অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ নেই।

Advertisement

ক্লাব কর্তাদের অভিযোগ, তাঁরা ব্য়াঙ্কে চেক জমা করতে গেলে ৩টি চেকই বাউন্স করে। মহামেডান ক্লাব কর্তৃপক্ষের আরও অভিযোগ, বুধবার অর্থাৎ ৫ অগাস্টের মধ্য়ে অন্তত অর্ধেক টাকা মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন হুমায়ুন। কিন্তু, এখনও তাদের হাতে কোনও টাকাই আসেনি। এই প্রেক্ষাপটে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ককে আইনি নোটিস পাঠিয়েছিল মহামেডান ক্লাব। সেই সঙ্গে ১০ অগাস্টের ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়। তার মধ্য়ে টাকা না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্য়বস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল। তবে হুমায়ুন কবীর আর সময় পেলেন না। তাঁর দিন শেষ হয়ে গেল মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবে। হুমায়ুন সরে যাওয়ায় সাদা-কালো শিবিরের প্রেসিডেন্টের পদে এবার বসলেন গজল জাফর। ক্লাবের ইতিহাসে তিনি কনিষ্ঠ প্রেসিডেন্ট। 

POST A COMMENT
Advertisement