বিশ্বকাপ খেলা দলকে রুখে দিল ভারতীয় ফুটবল টিম'ঘুমন্ত দৈত্য' বা 'স্লিপিং জায়ান্ট', ভারতীয় ফুটবলের জন্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে ব্যবহৃত সবচেয়ে চেনা শব্দ। বিশাল জনবহুল ও ফুটবলপ্রেমী দেশ হওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ার কারণেই এমন নাম হয়ে রয়েছে ভারতীয় ফুটবল দলের। তবে এবার কি ঘুমন্ত দৈত্যের ঘুম ভাঙার পথে? স্বপ্ন নিয়ে বুক বাঁধতেই পারেন ফুটবলপ্রেমীরা। কারণ, শুক্রবারই ওয়ার্ল্ড কাপ খেলা, বিশ্বের ৪৫ নম্বরে থাকা পানামা-র বিরুদ্ধে ভারতীয় ব্রিগেড যে যাদু দেখাল, তাতে কুর্ণিশ জানাতেই হয় টিম ইন্ডিয়াকে।
স্কোর কত?
শুক্রবার বেঙ্গালুরুর শ্রী কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে পানামার বিপক্ষে ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে নেমেছিল টিম ইন্ডিয়া। যেখানে জাত চিনিয়েছেন ভারতীয় তারকারা। ম্যাচের প্রথমার্ধেই ১-০ গোলে এগিয়েও যায় নীল জার্সি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই স্কোর ধরে রাখতে পারেননি গুরপ্রীতরা। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে সমতা ফেরায় সফরকারী দল। ১-১ গোলেই ড্র হয় ম্যাচ।
খেলা কেমন জমল?
ম্যাচের শুরুর দিকে পানামার দখলে বল থাকলেও ভারতীয় রক্ষণভাগকে বেশ জমাটি লাগছিল প্রথম থেকেই। পানামার থেকে বল যখনই ভারতের পায়ে এসেছে, তখনই ভারত দ্রুত আক্রমণেও গিয়েছে। ৪৫ নম্বরে থাকা টিমকে ১৩৮ নম্বরে থাকা ভারত যে ছেড়ে কথা বলবে না, বোঝা গিয়েছিল তখনই। ম্যাচের মাত্র ৮ মিনিটে আকাশ মিশ্র একটি চমৎকার কাট-ব্যাক করেন, যা রায়ান উইলিয়ামসের সামনে সুযোগও এনে দিয়েছিল। কিন্তু ভারতীয় সমর্থকদের হতাশ করেন রায়ান। এর কিছুক্ষণ পরেই তাঁর আরও একটা শট একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে আশিক কুরুনিয়ানও গোল করার একটি সুযোগ তৈরি করেন, কিন্তু তার শট সাইড নেটে গিয়ে লাগে।
অবশেষে ক্রমাগত চাপের পর ৪১ মিনিটে ভারত সাফল্য পায়। আকাশ মিশ্র ডিফেন্স থেকে একটি লং শট পাঠান, আর রায়ান উইলিয়ামস নিখুঁত টাইমিংয়ে দৌড়ে এসে পানামার গোলরক্ষক মার্কোস রেইসকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান। হাফ টাইমের শেষে ভারত এগিয়ে যায় ১-০ তে।
তবে প্রত্যাশা মতোই খোঁচা খাওয়া বাঘের ভঙ্গিতেই দ্বিতীয়ার্ধে পানামা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। একাধিকবার পরীক্ষা দিতে হয় টিম ইন্ডিয়ার গোলরক্ষক ও অধিনায়ক গুরপ্রীত সিং সান্ধুকে। ৫০তম মিনিটে একটি দুর্দান্ত সেভও করেন তিনি। তবে ৬৮ মিনিটে পানামা সমতা ফেরায়। ওমর ভ্যালেন্সিয়া বক্সের বাইরে থেকে একটি জোরালো শট নেন, যা সরাসরি জালে জড়িয়ে যায়। তবে তারপরেও আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ায় পানামা। একটি বল ভারতের গোল পোস্ট বারেও লাগে। অপর একটি গোল সেভ করেন গুরপ্রীত।
তবে ভারতও চেষ্টার কসুর করেনি। বদলি খেলোয়াড় এডমন্ড লালরিন্দিকার পাস থেকে খেলার শেষদিকে মনবীর সিং গোল করার একটি দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা কাজে লাগাতে পারেননি। কর্নার থেকে বল পেয়ে অভিষেক সিং টেকচামও চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তার শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।