সব শেষে কিছুটা অম্ল-মধুর স্বাদেই মাঠ ছাড়লেন দর্শকরা।কলকাতা অপেক্ষায় ছিল। যুবভারতী অপেক্ষায় ছিল। অপেক্ষা ছিল সাম্বা ম্যাজিকের। ঘড়ির কাঁটায় ঠিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। শুরু হল সেই মহারণ। এক দিকে ভারত। অন্য দিকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম। তাতে কী! ব্রাজিল খেলতে এসেছে। ম্যাচ শুরুর আগেই যুবভারতীতে জনসমুদ্র। হলুদ-সবুজের ঢেউ। একদিকে বাঙালির ব্রাজিলের প্রতি ভালবাসা। অন্যদিকে কিছু একটা অঘটনের সুপ্ত বাসনা। সব শেষে কিছুটা অম্ল-মধুর স্বাদেই মাঠ ছাড়লেন দর্শকরা।
এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিলের দাপট ছিল। প্রথম মিনিটেই আক্রমণ। উইং ধরে বার বার উঠে আসছিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। একটি গোলমুখী শটও এল। কিন্তু ভারতের ত্রাতা হয়ে রুখে দাঁড়ালেন গুরপ্রীত সিং সান্ধু। দুর্দান্ত সেভ।
ভারতও অবশ্য একেবারে হাত পা গুটিয়ে বসে ছিল, তা বলা যায় না। ১৫ মিনিটের মাথায় সুযোগ পেয়েছিলেন মণবীর সিং। কিন্তু বক্সে ঢুকেও শেষ শটটি গোলে রাখতে পারলেন না। প্রায় আধ ঘণ্টা পর্যন্ত লড়াই বেশ জমে উঠেছিল। ভারত পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার ব্রাজিলের রক্ষণে রীতিমতো চাপ তৈরি করেছিল।
তবে আস্তে আস্তে সেই তাল কাটতে শুরু করল। ৩০ মিনিটের মাথায় এস্তেভাওয়ের শট। গুরপ্রীতের হাতে লেগে বল জালে। ১-০ ব্রাজিল।
বিরতির ঠিক আগে আরও ধাক্কা। পেদ্রোর জোরালো শট। গুরপ্রীতের হাতে লেগে আবার জালে। ২-০।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলকিপার বদল করল ভারত। গুরপ্রীতের জায়গায় এলেন প্রভসুখন গিল। ব্রাজিলও একসঙ্গে একাধিক পরিবর্তন করল। কিন্তু ম্যাচের রিদম বদলাল না।
৫৮ মিনিটে ভারতের ভুল পাস। আর ব্রাজিলের মতো টিমের সামনে এই সামান্য ভুলই 'প্রাণঘাতি'। সুযোগ হাতছাড়া করলেন না স্যামুয়েল লিনো। ঠান্ডা মাথায় গোল। ৩-০।
এর পরেও মণবীর, রায়ান উইলিয়ামসরা যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন। সুযোগ এসেছে। কিন্তু গোল আসেনি। মণবীর ৭৫ মিনিটে ফের সুযোগ পেয়েও বল বাইরে মারলেন।
৯০ মিনিট পেরিয়ে গিয়েছে। অতিরিক্ত সময় চার মিনিট। গিল দুরন্ত সেভ করে ব্যবধান আর বাড়তে দেননি। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। শেষ মুহূর্তে আবার স্যামুয়েল লিনোর দুর্দান্ত শট। পরাস্ত গিল।
শেষ বাঁশি। স্কোরবোর্ডে ভারত ০, ব্রাজিল ৪।
কলকাতার রাতটা আজ তাই সাম্বার। ভারত লড়েছে। সুযোগও তৈরি করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নের সঙ্গে ব্যবধানটা থেকেই গেল।