আমেরিকায় গেল ইরানঅবশেষে যুদ্ধ শেষ। মধ্যপ্রাচ্যে এসেছে শান্তি। আর এমতাবস্থাতেই ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এ নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে আমেরিকায় পৌঁছল ইরানের জাতীয় ফুটবল দল। আর এই ঘটনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা পরেই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা সামনে আসে।
যতদূর জানা যাচ্ছে, ইরানের দলটি মেক্সিকোর তিজুয়ানা থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছয়। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য তারা এতদিন মেক্সিকোতেই ছিল। তারা আমেরিকার খেলতে যাবে কি না তা নিয়েও জল্পনা ছিল বিস্তর। তবে নতুন চুক্তি সাক্ষর হওয়ার খবর সামনে আসার পরই আমেরিকায় প্রবেশ করল ইরান।
এ দিন ইরানের দলের হোটেলের বাইরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত কড়া। আশপাশের রাস্তার কিছু অংশ বন্ধ করে দেয় পুলিশ। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত ব্যারিকেড বসানো হয়। পরে দলের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোয়ি এবং তারকা স্ট্রাইকার মেহদি তারেমি সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখোমুখি হওয়ার কথা।
এ দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ঘোষণা করেন যে, ইরানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি হতে চলেছে। আগামী সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে। সেই সময়ই আমেরিকায় পৌঁছে গেল ইরানের জাতীয় ফুটবল দল।
বিশ্বকাপের আগে কী কী সমস্যার মুখে পড়েছিল ইরান?
বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ইরানের পরিস্থিতি ছিল খুবই চ্যালেঞ্জিং। প্রথমে ইরান ফুটবল ফেডারেশন আমেরিকার অ্যারিজোনায় তাদের বেস ক্যাম্প গড়ার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মার্কিন-ইজরায়েলি সামরিক হামলার পর সেই পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়। এরপর দলটি মেক্সিকোতে প্রস্তুতি শিবির করে। সেখানেই অনুশীলন করেন ফুটবলাররা। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেই আমেরিকায় গেল ইরানের দল।
যদিও রবিবারও লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভকারীরা ইরান সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। তারা এই দেশে গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবি তোলেন। অনেকের হাতে এই সময় সময় নিহত বা গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের ছবি ছিল।
তবে ইরানকে সমর্থনের ছবিও দেখা গিয়েছে। তিজুয়ানা ছাড়ার আগে শত শত সমর্থক দলের হোটেলের বাইরে জড়ো হয়ে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেন।
কবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলবে ইরান?
ইরান তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। গ্রুপ জি-এর এই ম্যাচটি সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হবে।