ইস্টবেঙ্গল দলের হাতে ট্রফি তুলে দিলেন কল্যাণইস্টবেঙ্গলের আইএসএল জয়ের সেলিব্রেশনের মধ্যেই, ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে। প্রায় আট বছর সংবিধান সংশোধন নিয়ে মামলা চলছে। আর সে কারণেই ভারতীয় ফুটবলে তার প্রভাব পড়ছে বলে মনে করেন কল্যাণ। যদিও পরের মরসুমে আইএসএল আয়োজনের ব্যাপারে আশাবাদী সভাপতি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ' প্রায় আট বছর ধরে সংবিধানের কেস চলছিল। তার সাথেও আরো কিছু আনুষঙ্গিক কেস চলছিল। একটা সময় মনে হচ্ছিল যে বোধহয় এই বছর ফুটবল হবে না। সুপার কাপ বিলম্বে শুরু হয়। আইএসএল এবছর যেভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাতে একজন সংগঠক হিসেবে আমি খুব তৃপ্ত। খুব আনন্দের। কিন্তু এর থেকেও বড় প্রাপ্তি, খেলাটার মধ্যে যে একটা স্বতঃস্ফূর্ত কম্পিটিশান লক্ষ্য করা গিয়েছে। ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগান যেরকম ভাবে শেষ দিন পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নের মধ্যে ছিল। আমার মনে হয় যবে থেকে আইএসএল শুরু হয়েছে, তবে থেকে এইরকম আইএসএল কখনো দেখা এটা আমার মনে হয় যে এই পরিশ্রমের ফল ঈশ্বরের কৃপায় সম্ভব হয়েছে এবং আমি ভগবানের কাছে ভীষণ রকম কৃতজ্ঞ যে এরকম ভাবে একটা আইএসএল সম্পূর্ণ হতে পারে।'
ফুটবল হওয়া নিয়ে কোনও সংশয় নেই বলে জানিয়ে দিলেন সভাপতি। তিনি বলেন, 'আমরা সবসময় বলেছি ফুটবল হবে, কোনদিন AIFF বলেনি, কোনদিন আমি বলিনি, ফুটবল হবে না। সুপার কাপ হয়েছে, লিক হয়েছে, সন্তোষ ট্রফি হয়েছে, আই আই ডব্লিউ দুদিন আগেই ইস্টবেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আপনি দেখুন কোন টুর্নামেন্ট। একুশটা টুর্নামেন্ট সারা বছরে আ হয়েছে এবং এত ম্যাচ একুশো ম্যাচ আছে। এত ম্যাচ কোনদিন হয়নি ভারতবর্ষের ফুটবলের ইতিহাসে।'
কিছু কিছু সঙ্কট অনেকের তৈরি করা বলেও অভিযোগ করেছেন কল্যাণ। তিনি বলেন, 'কিছু কিছু আশঙ্কা তৈরি করা হয়েছে কিছু ক্রাইসিস ম্যানমেড হয়েছে মানুষের তৈরি করা। আর বিতর্ক থাকলে ভালো লাগে, লোক রোজ সংবাদ পড়ে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ফুটবল যেরকম ভাবে এগিয়ে চলেছে এইভাবে এগিয়ে যাবে। তাহলে নতুন বছরের আইএসএলকে স্বমহিমায় দেখা যাবে।'
ইস্টবেঙ্গলের এই জয় নিয়েও মুখ খুলেছেন কল্যাণ। তিনি বলেন, 'যখনই কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় সেখানে একটা ভারসাম্য থাকা ভালো। যদি কোনো একটা ক্লাব বারবার জিততে থাকে এবং অন্য ক্লাব যদি ক্রমাগত নিচের দিকে থাকে তাহলে সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভারসাম্য থাকে না। ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগান ডার্বি বিশ্বের পাঁচটা ডার্বির মধ্যে অন্যতম। এখানে কোটি কোটি মানুষের উৎসাহ থাকে এই ম্যাচের ম্যাচকে কেন্দ্র করে। খুব ভালো লাগছে বিগত গত কয়েক বছর ধরে ইস্টবেঙ্গল যেরকম ভাবে লিগের টপে আসতে কোনো না কোনো কারণে ব্যর্থ হচ্ছিলো। আজকে জেতাতে বাংলার ফুটবল অত্যন্তভাবে উপকৃত হবে কারণ মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গলের কম্পিটিশন যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন বাংলার ফুটবল বেঁচে থাকবে ততদিন ভারতের ফুটবল বেঁচে থাকবে।'