এমিলিয়ানো মার্টিনেজের সেই সেভ (বাঁ দিকে) গিলের সেভ (ডান দিকে)ম্যাচের শুরুর দিকে নড়বড়ে প্রভসুকান গিল, ম্যাচের শেষে লাল-হলুদের নায়ক। প্রথমদিকে বলের ফ্লাইট মিস করছিলেন, বল একবারে ধরতে গিয়েও সমস্যায় পড়েছেন। তবে ইনজুরি টাইমে তাঁর প্রসারিত পায়ের সেভ ডার্বির হার যেমন বাঁচালো, তেমনই খেতাবের আরও কাছে চলে এল ইস্টবেঙ্গল। ফলে অনেকেই বিশ্বকাপ ফাইনালে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের সেভের সঙ্গে তুলনা করছেন।
গিল যেন মার্টিনেজ
ম্যাচ যত গড়িয়েছে, ততই আত্মবিশ্বাস বেড়েছে ইস্টবেঙ্গলের লাস্ট লাইন অফ ডিফেন্সের। মোহনবাগানের আক্রমণের মুখে বারবার চাপে পড়েও অসাধারণ স্থিরতা ও দক্ষতায় দলকে ভরসা জুগিয়েছেন লাল-হলুদ গোলরক্ষক। তবে তাঁর ইনজুরি টাইমের সেভ ২০২২-এর বিশ্বকাপের ফাইনালের পুনরাবৃত্তি বলে মনে করছেন অনেকেই। টানটান সেই ম্যাচে শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজের সেভ লিওনেল মেসিদের কাপ জয়ের রাস্তা প্রশস্ত করেছিল। সেবার ফ্রান্সের তারকা কোলো মুয়ানির জোরালো শট মার্টিনেজের বাঁ পায়ে লেগে বাইরে চলে যায়।
আর রবিবার যুবভারতীতে মোহনবাগানের জেমি ম্যাকলরেন দারুণ সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন। ফাঁকায় পাওয়া বল গোলে ঠেলতে গিয়েছিলেন মোহনবাগানের স্ট্রাইকার। তবে বাধা হয়ে দাঁড়ান গিল। সেই বাঁ পা প্রসারিত করে আটকে দেন মোহনবাগানের লিগ জয়ের স্বপ্ন। ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা এই মুহূর্তকে বাঁধিয়ে রাখতে চাইছেন। ঠিক যেভাবে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের মণিকোঠায় রয়ে গিয়েছে সেই সেভ।
দেখুন সেই সেভের মুহূর্ত
গিলের প্রশংসা অস্কারের মুখে
ম্যাচ শেষে কোচ অস্কার ব্রুজ্যে গিলের পরফরমেন্সের প্রশংসা করে বলেন, 'গিল এমন একজন ফুটবলার, যাকে আত্মবিশ্বাস জোগানোটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচের শুরুতে, বিশেষ করে লং কিকে, ও কিছুটা সমস্যায় ছিল। হাফটাইমে আমরা ওর সঙ্গে আলাদা করে কথা বলি এবং বিশেষ করে ডায়াগোনাল বল খেলতে বলি। শুধু শেখ মুহূর্তের সেভ নয়, গোটা ম্যাচেই ওর পারফরম্যান্স সন্তোষজনক।' সমালোচনা পেরিয়ে এই পারফরম্যান্সই আবার প্রমাণ করুল, দলের সবচেয়ে কঠিন সময়ে ভরসার জায়গা হয়ে উঠতে পারেন প্রভসুখন সিং গিল।
এডমুন্ড গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন। সেই সময় মনে হচ্ছিল, তিন পয়েন্ট প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু পাঁচ মিনিট পর কামিন্সের গোলে সমতা ফেরায় মোহনবাগান। লিগ জিততে হলে এই ম্যাচ থেকে তিন পয়েন্ট পেতে হত সবুজ-মেরুন শিবিরকে। তবে ১ পয়েন্ট নিয়েই খুশি থাকতে হল তাদের। পাশাপাশি ট্রফি ধরে রাখার লড়াই আরও কঠিন হল।