বাণিজ্যিক অংশীদারের অভাবে ISL-এর সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। কলকাতার দুই বড় ক্লাব আপত্তি না জানালে, হয়তো ডার্বি দিয়েই ১৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হত এই মরসুমের ইন্ডিয়ান সুপার লিগ। কিন্তু আইএসএলের প্রস্তাবিত ক্রীড়াসূচি দেখে বেঁকে বসে দুই ক্লাবই। জানিয়ে দেয়, প্রতিযোগিতার সবচেয়ে উত্তেজক ম্যাচটি কিছুতেই ম্যাচ প্রস্ততি ছাড়া খেলবে না তারা।
একেই নানা বাধা বিপত্তি। তার উপর আইএসএলের কোনও ম্যাচ না খেলেই শুরুতেই ডার্বি খেলতে বেঁকে বসে দু'প্রধানই। ফলে ডার্বি ম্যাচ দিয়ে আইএসএল শুরুর পরিকল্পনা ব্যহত হয়। যা জানা যাচ্ছে, বুধবার আইএসএলের ক্রীড়াসূচি প্রকাশ হলে হয়তো দেখা যেতে পারে মে মাসে ডার্বি ম্যাচ।
গভর্নিং কাউন্সিল ঠিক হয়ে যেতেই তাড়াতাড়ি করে ক্রীড়াসূচি তৈরির প্রস্তুতি শুরু করে দেয় ক্লাবগুলি। কারণ, আইএসএলের ক্লাবদের চার প্রতিনিধি নিয়ে তৈরি হয়েছে ক্রীড়াসূচি তৈরির কমিটি। সেখানে ঠিক হয়, শুরুতেই আইএসএল নিয়ে একটা উত্তেজনা তৈরি করতে ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম ম্যাচটা খেলুক কলকাতার দুই প্রধান। সেভাবে আইএসএলের ক্রীড়াসূচি নিয়ে একটা খসড়াও তৈরি হয়ে যায়। ক্রীড়াসূচি কমিটির এই প্রস্তাব সামনে আসতেই বেঁকে বসে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান। তাদের যুক্তি হল, কোনও রকম ম্যাচ না খেলেই কেন শুরুতেই ডার্বি খেলবে তারা। লিগের অন্তত পাঁচ-ছ'টা ম্যাচ খেলার পর তাদের ডার্বি খেলা উচিত। কিন্তু দুই প্রধানের পাঁচ-ছ'টা ম্যাচ হতে হতে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের মুহূর্ত এসে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ডার্বির মতো হাইভোল্টেজ ম্যাচ আয়োজনে সমস্যা হতে পারে। তখন সব দিক বিবেচনা করে ঠিক হয়, তাহলে নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর মে মাসে ডার্বি ম্যাচের আয়োজন হতে পারে। কিন্তু কোনও কারণে নির্বাচন যদি মে মাসে চলে যায়, তখন অন্যরকম কিছু ভাবা যেতে পারে। তার আগে আপাতত মে মাসে ডার্বি ধরেই এগোনো হচ্ছে।
আইএসএলের ক্রীড়াসূচি নিয়ে বহু তথ্য প্রকাশ্যে এলেও তা সরকারি নয়। কারণ ১৪ ক্লাবের মধ্যে অনেকেই এখনও তাদের হোম গ্রাউন্ড চূড়ান্ত করতে পারেনি। মতবে ১৪ ফেব্রুয়ারি ঘরের মাঠে উদ্বোধনী ম্যাচে মোহনবাগান খেলবে। কারণ তারাই গতবারের চ্যাম্পিয়ন। প্রতিপক্ষ হয় তো কেরালা ব্লাস্টার্স। ক্লাবগুলোই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ক্রীড়াসূচি করছে। আজ বুধবার সেই সূচি এআইএফএফের কর্তাদের কাছে জমা পড়বে। সব ঠিকঠাক থাকলে কাল ২৩ জানুয়ারি চূড়ান্ত সূচি সরকারিভাবে ঘোষণা করবে ফেডারেশন।
মুম্বই ও চেন্নাইয়িন তাদের হোম ম্যাচ করার ব্যাপারে মাঠ নিয়ে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের সঙ্গে এআইএফএফকে আলোচনা করার অনুরোধ করেছিল। ফেডারেশনের তরফে দুই রাজ্যের স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দিল্লিতেই স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি টিমের খেলার ব্যবস্থা করছে ফেডারেশন। পাঞ্জাব এফসির খেলা হতে পারে উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে। ওডিশা এফসি মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তাদের হোমগ্রাউন্ড ঠিক করতে পারেনি।