ইসমাইলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল ম্যাচের ২১ মিনিটে তাঁর করা গোল রবিবারের ভোরে বাঙালির রক্তচাপ বাড়িয়ে দিয়েছিল। ব্রাজিল সমর্থকরা চিন্তায় পরে গিয়েছিলেন, তা হলে কি প্রথম ম্যাচে হেরেই যাবে পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়নরা? ভাগ্যিস ভিনিশিয়াস জুনিয়র বাঁচিয়ে দিলেন তাঁদের। এ তো গেল ব্রাজিল সমর্থকদের কথা। তবে মরক্কোর হিরো এখন ইসমাইল সাইবারি। তাঁর গোলে জিততে না পারলেও, ব্রাজিলকে আটকে দেওয়া কি চাড্ডিখানি কথা?
কিছুদিন আগে বিতর্কে জড়ান সাইবারি
কিছু দিন আগে একটি বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন সাইবারি। আফ্রিকান কাপ অফ নেশনসের ম্যাচে তাঁকে সেনেগালের গোলরক্ষক এডুয়ার্ড মেন্ডির তোয়ালে চুরি করতে দেখা যায়। টেলিভিশনের ক্যামেরায় ধরা পড়ে ঘটনাটি। বৃষ্টির মধ্যে মেন্ডি যাতে দস্তানা মুছতে না পারেন, তাই তোয়ালে সরিয়ে নেন সাইবারি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আশরফ হাকিমিও। সেই ঘটনার জন্য তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। ভুল বুঝতে পেরে মেন্ডি এবং গোটা সেনেগাল দলের কাছে গিয়ে ক্ষমা চান।
বেলজিয়ামের হয়ে খেলার প্রস্তাব ফেরান সাইবারি
অথচ ১৪ বছর বয়সেই শেষ হয়ে যেতে পারত তাঁর ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন। বেলজিয়ামের হয়ে খেলার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া স্ট্রাইকার বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন গত আফ্রিকান কাপ অফ নেশনসের সময়। কিন্তু কেন তিনি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন? কিশোর বয়সেই সাইবারির মনে বেলজিয়ামের প্রতি অভিমান তৈরি হয়েছিল। কারণ তাঁর বয়স যখন ১৪, তখন ওজন কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় বেলজিয়ামের ক্লাব আন্দ্রেলেখ্ত তাঁকে বাতিল করে দেয়। ধাক্কা খায় কিশোর ফুটবলারের স্বপ্ন। সাইবেরি অবশ্য হাল ছাড়েননি। পরে যোগ দেন পিএসভি আইন্ডহোভেনের মতো ক্লাবে। সেখানে কোচ হিসাবে পান নেদারল্যান্ডসের প্রাক্তন ফুটবলার রুড ভ্যান নিস্তেলরুইকে। তাঁর প্রশিক্ষণেই তৈরি হয়েছেন আজকের সাইবেরি।
সাইবারির জন্ম স্পেনে। ৬ বছর বয়সে তাঁর পরিবার চলে যায় বেলজিয়ামে। ১০ বছরের বেশি সেখানে ছিলেন। বেলজিয়ামেই ফুটবল শেখা শুরু। তিনি বলেছেন, ‘পাঁচ-ছ’বছর বয়সে রাস্তায় খেলা শুরু আমার। তখন ১০-১২ বছরের ছেলেদের সঙ্গে খেলতাম। কারণ আমার বয়সের কেউ ছিল না তেমন।’
বেলজিয়ামের প্রস্তাব কেন ফিরিয়েছিলেন? সাইবারি বলেছেন, ‘জাতীয় দল নির্বাচন করাটা সহজ নয়। মনের টানের ব্যাপার থাকে। একটা দেশের প্রতিনিধিত্ব করার ব্যাপার। সেটা হৃদয় থেকে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। অন্য রকম অনুভূতি এটা। তা ছাড়া কাদের হয়ে খেললে ফুটবলার হিসাবে লাভবান হতে পারব, সেটাও ভাবিয়েছিল। মার্টিনেজ আমায় বেলজিয়ামের হয়ে খেলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। চাইলে স্পেনের হয়েও খেলতে পারতাম। তাও মরক্কোকে বেছে নিয়েছি। মরক্কোর যুব দলের হয়ে খেলেছি। তাই একটা টান তৈরি হয়ে গিয়েছিল। সিদ্ধান্ত নিতে খুব সমস্যা হয়নি।’