জেমি ম্যকলরেনমোহনবাগান সুপার জায়েন্টের (Mohun Bagan Super Giant) স্ট্রাইকার জেমি ম্যাকলরেন (Jamie Maclaren) এবার সাংবাদিক। বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) অস্ট্রেলিয়ার সাংবাদিক হিসেবে আমেরিকা গিয়েছেন জেমি। তাঁর দেশ অস্ট্রেলিয়া ২-০ গোলে তুরস্ককে (Australia vs Turkey) প্রথম ম্যাচে হারানোর পর, উত্তেজিত হয়ে ওঠেন ম্যাকলরেন। ভিডিওতে বাইট দেওয়ার সময়, আনন্দে লাফিয়ে পড়তে দেখা যায়। সেই ভিডিও এখন অজি চ্যানেলের সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
দারুণ শুরু অস্ট্রেলিয়ার
ডি গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ অভিযান দারুণভাবে শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচজুড়ে পিছিয়ে থেকেও কার্যকর ফুটবল খেলে তিন পয়েন্ট তুলে নিয়েছে সকারুজরা। শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখার চেষ্টা করে তুরস্ক। মাঝমাঠে হাকান চাহানোগলু ও আর্দা গুলেরের নেতৃত্বে আক্রমণ গড়ে তুলতে থাকে ইউরোপের দলটি। তবে রক্ষণে শৃঙ্খলাবদ্ধ অস্ট্রেলিয়া অপেক্ষা করছিল পাল্টা আক্রমণের সুযোগের।
সেই সুযোগ আসে ম্যাচের ২৭ মিনিটে। দ্রুতগতির এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে তুরস্কের রক্ষণভাগকে ভেদ করে গোল করেন নেস্তরি ইরানকুন্ডা। মাত্র ২০ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড নিজের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। গোলের পর তুরস্ক আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে, কিন্তু প্রথমার্ধে সমতা ফেরানোর পথ খুঁজে পায়নি।
বিরতির পরও ম্যাচের চিত্র একই ছিল। বলের দখল, পাসের সংখ্যা এবং আক্রমণের পরিসংখ্যানে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল তুরস্কের। ম্যাচজুড়ে তারা ৬২ শতাংশ সময় বল নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। গোলমুখে নিয়েছে ২৬টি শট, যার সাতটি ছিল লক্ষ্যে। তবে পরিসংখ্যানের এই শ্রেষ্ঠত্বকে গোলের উৎসবে রূপ দিতে পারেনি তারা। একদিকে অস্ট্রেলিয়ার সংগঠিত রক্ষণ, অন্যদিকে তুর্কি ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতা—দুইয়ের সমন্বয়ে হতাশা বাড়তেই থাকে তুরস্কের শিবিরে।
ম্যাচের ৭৫ মিনিটে আসে অস্ট্রেলিয়ার জন্য স্বস্তির মুহূর্ত। তুরস্ক যখন সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টায় প্রায় সবাইকে আক্রমণে তুলে এনেছে, তখন আরেকটি দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কনর মেটকাফে। বক্সের ভেতর থেকে তাঁর নিখুঁত ফিনিশিং কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
দুই গোল পিছিয়ে পড়ার পরও হাল ছাড়েনি তুরস্ক। শেষ দিকে ব্যবধান কমানোর কয়েকটি ভালো সুযোগও তৈরি করেছিল তারা। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ করে দলকে স্বস্তিতে রাখেন। এক পর্যায়ে নিশ্চিত গোলের সম্ভাবনাও নষ্ট হয়ে যায় অস্ট্রেলীয় রক্ষণভাগের দ্রুত ক্লিয়ারেন্সে।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার সমর্থকেরা। কারণ, ম্যাচের পরিসংখ্যান তাদের পক্ষে না থাকলেও স্কোরলাইন ছিল পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে।