লিওনেল মেসি তাঁর ঐতিহাসিক ছয়টি ফিফা বিশ্বকাপ অভিযানে যে সমস্ত রেকর্ড ভেঙেছেনক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো না লিওনেল মেসি, সর্বকালের সেরা কে? এ নিয়ে লড়াই দীর্ঘদিনের। তবে এবার তা বন্ধ হওয়া স্প্যানিশ লিগে রিয়াল মাদ্রিদ বনাম বার্সেলোনা দ্বৈরথ থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ, সব জায়গাতেই এই একখানা সওয়াল ঘুরেফিরে আসে। কে বেশি সফল? কার পায়ে জাদুর মাত্রা কিঞ্চিৎ বেশি? তর্কের তোড়ে চায়ের কাপে তুফান উঠেছে।
এবার সেই আকচাআকচিতে চিরতরে অবসান ঘটালেন আর্জেন্তিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। গতরাতে আটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছে লা আলবিসেলেস্তেরা (FIFA World Cup 2026)। যে রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর সাংবাদিক বৈঠকে স্কালোনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, তাঁর চোখে মেসিই সর্বশ্রেষ্ঠ! স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা-কে আর্জেন্তাইন কোচ অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘ও যে ইতিহাসের সেরা ফুটবলার, তা নিয়ে আর কোনও সন্দেহই নেই!’
জোড়া অ্যাসিস্ট করে নায়ক সেই মেসি
বিপক্ষের বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও কীভাবে ফিরে আসতে হয়, তা আরও একবার মেলে ধরল আর্জেন্তিনা। ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন! যার নেপথ্যে সেই একজন… স্বয়ং অধিনায়ক লিও মেসি (Lionel Messi)। টানা দ্বিতীয় ম্যাচ, যেখানে নিজে গোল পাননি। কিন্তু তাতে কী! সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়ে ভিন্ন আঙ্গিকে প্রমাণ করলেন নিজের অনস্বীকার্য শ্রেষ্ঠত্ব।
দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর চতুর পাস ও ক্রস থেকেই আসে মূল্যবান দুটি গোল। জোড়া অ্যাসিস্টের সুবাদে ইংরেজদের হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। চলতি টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত আটটি গোল করেছেন এই মহাতারকা। পাশাপাশি চারটি অ্যাসিস্টও মেসির নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে (Argentina vs England)। অবিশ্বাস্য ফর্ম। যা দলকে খেতাব ধরে রাখার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। বিপক্ষের রক্ষণভাগ বারবার মেসির মগজাস্ত্রের কাছে হার মানতে বাধ্য হচ্ছে।
ম্যাচ শেষে আর্জেন্তিনার কোচ বলেন, 'আমি সত্যি মনে করি, চাপে থাকলেই এই দল নিজেদের সেরা ফুটবল খেলে। যখন আমরা ধুঁকছি, আর প্রতিপক্ষ সামান্য ইতস্তত করছে, তখন আমরা রক্তের গন্ধ পাই। নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ি। এই দল আমাকে সেই অনুভূতিই দেয়।'
ইতিহাস গড়ার পথে আর্জেন্টিনা
ফুটবলারদের লড়াকু মানসিকতায় রীতিমতো মুগ্ধ কোচ। স্কালোনির কথায়, 'আমি খুশি, কারণ দলটা একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছে। আমার কাছে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমরা ছিটকে গিয়ে বাড়িও ফিরতাম, তাহলেও এই তৃপ্তিটা থাকত যে মাঠে আমরা নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি।'