বিশ্বকাপে প্রথম প্লেয়ার হিসেবে নয়া রেকর্ড মেসিরমেসি এলেন, দেখলেন, গোল করলেন। আর্জেন্টাইন মহাতারকার ক্ষেত্রে রবিবার সকালে একথাই প্রযোজ্য হচ্ছে। কারণ ৬০ মিনিটে ম্যাচে নেমেও প্রায় স্ব-মেজাজেই ধরা দিলেন লিওনেল মেসি। পরবর্তী ৩৫ মিনিটে শেষ বাঁশি বাজার আগের করে ফেললেন গোলও! মেসির ফ্রি-কিক থেকে জালে বল গড়াতে দেখলেন জর্ডনের গোলকিপার ইয়াজিদ আবু লায়লা।
রবিবার সকালে (ভারতীয় সময়) জর্ডনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নিজের ১৯তম গোলটি করলেন লিওনেল। এই গোল করার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বকাপের টানা সাতটি ম্যাচে গোল করা রেকর্ড এল মেসির নামে। এর আগে কোনও খেলোয়াড়ের এই নজির নেই। এতদিন বিশ্বকাপে পরপর ৬টি ম্যাচে গোল করার তালিকায় ছিলেন মোট ৩ জন। ফ্রান্সের প্রাক্তন খেলোয়াড় জুস্ত ফোঁতেন ও ব্রাজিলিয়ান তারকা জায়েরজিনিয়োর সঙ্গে একই তালিকায় ছিলেন মেসি। এবার সেই রেকর্ডও ভাঙলেন তিনি।
৬০ মিনিটে মাঠে নামার পর বেশ কয়েকবার মেসির পায়ে বল এলেও, তিনি খুব বেশি সময় বল নিজের পায়ে রাখেননি। এরপর বক্সের বাইরে থেকে একটি ফ্রি কিক নেন লিওনেল। কিন্তু সেই বল বার-এর বেশ কিছুটা উপর দিয়েই চলে যায়। ঠিক ৮০ মিনিটে আসে মাহেন্দ্রক্ষণ। তখন এমনিতেই ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। পেনাল্টি বক্সের বাইরে ফের একটি ফ্রি- কিক পায় আর্জেন্টিনা। এবার শট গোলে রাখতে ভুল করেননি LM10। জর্ডনের ডিফেন্ডারদের পাশ থেকে গোলকিপারকে রীতিমতো হতবুদ্ধ করে নেটের বাঁ দিকে বল গোলে জড়ান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
এই নিয়ে নিজের ক্যারিয়ারে ১২৩টি আন্তর্জাতিক গোল করে ফেললেন লিওনেল মেসি। তাঁর সামনে ১৪৫টি গোল করে এগিয়ে রয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ফ্রি-কিক এর বিচার করলে ফ্রি-কিক থেকে ৭২তম গোলটি এদিন নেটে জড়ালেন মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে ফ্রি-কিকে তাঁর এটি ১২তম গোল।
উল্লেখ্য, এই জয়ের ফলে ৩ ম্যাচে পুরোপুরি ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ 'জে'-এর শীর্ষ দল হিসেবে রাউন্ড অব ৩২-এ পা রাখল আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে টানা তিন হারে কোনো পয়েন্ট না পেয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল জর্ডন। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় রাউন্ড অব ৩২ বা শেষ ৩২-এর ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হিসেবে নির্ধারণ হয়েছে কেপ ভার্দে।