খুদে ফুটবলারদের সঙ্গে রঞ্জিত বাজাজহেলসিঙ্কি কাপ চ্যাম্পিয়ন হল মিনার্ভা অ্যাকাডেমি। গতবারের চ্যাম্পিয়ন ফিনল্যান্ডের এইচজেক হেলসিঙ্কিকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেরার শিরোপা জিতে নিল ভারতের অ্যাকাডেমি। গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে মিনার্ভা অ্যাকাডেমি তাদের প্রতিপক্ষদের দাঁড়ানোর কোনো সুযোগই দেয়নি। পুরো টুর্নামেন্টে তারা মোট ৫০টিরও বেশি গোল করেছে।
গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই ফিনিশ ক্লাব এফসি ভালত্তিকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের বিধ্বংসী ফর্মের জানান দেয় মিনার্ভা। এরপর হেলসিংগিন পালোসিউরাকে ৯-১ গোলে এবং ইবিকে (EBK)-কে ১১-০ গোলে গুঁড়িয়ে দেয় তারা। ইবিকে-র বিরুদ্ধে ম্যাচে টি. কিপগেন একাই এক ম্যাচে ৬টি গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েন। নকআউট পর্বেও এই দাপট অব্যাহত ছিল। রাউন্ড অব ৩২-এ হেলসিংগিন পোনিস্টাসকে ১৯-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে তারা। রাউন্ড অব ১৬-এ মাকাতি এফসির বিপক্ষে ওয়াকওভার পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে ভারতীয় এই দল। কোয়ার্টার ফাইনালে তারা শক্তিশালী এইচজেক (HJK)-কে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দেয়। সেমিফাইনালে কাপিলান পালোকে ৯-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে পা রাখে মিনার্ভা অ্যাকাডেমি ।
ফাইনালে জয়
ফাইনাল ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ও দুই বারের শিরোপাজয়ী এইচজেক হেলসিঙ্কির মুখোমুখি হয়ে মিনার্ভা রক্ষণে ও আক্রমণে দুর্দান্ত ভারসাম্য বজায় রাখে। ম্যাচের একমাত্র ও জয়সূচক গোলটি করে দলকে শিরোপা এনে দেন মিনার্ভার তরুণ তুর্কিরা। গত বছরের ফাইনালে ১-০ গোলের হারের যে ক্ষত ছিল, এবার ঠিক একই ব্যবধানে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে সেই ক্ষতে প্রলেপ দিল মিনার্ভা।
এই টুর্নামেন্টে মিনার্ভার হয়ে পারফর্ম করেছেন বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়। ৬ গোল করা টি. কিপগেন ছাড়াও ইয়োহেনবা নকআউট পর্বে গুরুত্বপূর্ণ গোল এনে দেন। পাশাপাশি রিমোসন এফসি কাসিয়াইসির বিপক্ষে হ্যাটট্রিকসহ টুর্নামেন্ট জুড়ে ধারাবাহিক গোল করেছেন। এছাড়াও হাওকিপ, নংড্রেন, পাইখোম্বা ও ডোনাল্ডরা ইউরোপীয় ডিফেন্স ভেঙে গোল করতে অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন।
ভারতীয় যুব ফুটবলের নতুন সূর্যোদয়
মিনার্ভা অ্যাকাডেমির এই সাফল্য কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। এটি তাদের ধারাবাহিক শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ। এর আগে ২০১৫ সালের পর থেকে তারা ইউরোপ কাঁপিয়ে চলেছে। তারা প্রথম ভারতীয় দল হিসেবে নরওয়ে কাপ জিতেছিল, যেখানে ৮ ম্যাচে রেকর্ড ১৩০টি গোল করেছিল এবং ফাইনালে ১৪-১ ব্যবধানে জিতেছিল। ডেনমার্কের ডানা কাপেও ১৫-০ গোলের রেকর্ড ব্যবধানে জিতে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এমনকি স্পেনের বিখ্যাত ভূমধ্যসাগরীয় আন্তর্জাতিক কাপে (MIC) লিভারপুল এফসির অনূর্ধ্ব-১৫ দলকে ৬-০ গোলে হারিয়ে পুরো ইউরোপীয় ফুটবলকে চমকে দিয়েছিল মিনার্ভা। এবার সেই মুকুটে যুক্ত হলো হেলসিঙ্কি কাপের অধরা পালকটি। এই শিরোপা জয়ের উৎসব অবশ্য বেশিদিন স্থায়ী হচ্ছে না, কারণ যুব বিশ্বকাপ হিসেবে খ্যাত 'গোথিয়া কাপ' খেলার উদ্দেশ্যে মিনার্ভার এই জয়ী দল এখনই সুইডেনের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে।