কোচবিহার ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়েছিল মোহনবাগান কোচবিহারের রাজবাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে শুরু হয়েছিল ভারতীয় ফুটবলের এক গৌরবময় অধ্যায়। মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণ ভূপ বাহাদুরের পৃষ্ঠপোষকতায় এখানেই জন্ম নেয় কোচবিহার কাপ – ভারতের অন্যতম প্রাচীন ফুটবল টুর্নামেন্ট। কিন্তু এই টুর্নামেন্ট শুধু খেলা ছিল না। ব্রিটিশ রাজের সময়ে এটা ছিল বাঙালির আত্মমর্যাদার লড়াই। খালি পায়ে, ধুলোমাখা মাঠে স্বপ্ন দেখত একদল ছেলে। আর এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মোহনবাগানও।
প্রথমবার ব্রিটিশদের হারিয়ে ট্রফি জয়
১৯০৪ সাল। কোচবিহার কাপের ফাইনালে ব্রিটিশ দলকে হারিয়ে মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব চ্যাম্পিয়ন হয়। তাই ১৯১১-র শিল্ড জয় থেকে নয়, এর আগেই খালি পায়ে ফুটবল খেলে ব্রিটিশদের হারানোর রেকর্ড গড়েছিল সবুজ-মেরুন ক্লাব। এই জয়ের পেছনে ছিলেন দুর্গাচরণ লাহা। তাঁর সাহায্য, তাঁর বিশ্বাস না থাকলে মোহনবাগান হয়তো কোচবিহারেই যেতে পারত না। অসুস্থ শরীরেও তিনি দলের পাশে ছিলেন। তবে সমস্যা ছিল অর্থ। টাকা পয়সা কীভাবে আসবে সেটা সেই সময়ও সমস্যা ছিল।
কীভাবে মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণ মোহনবাগানের স্পন্সর হন?
টুর্নামেন্ট জেতার পর মহারাজার দরবারে সংবর্ধনা। আর এই সময় মোহনবাগান ক্লাবের পক্ষ থেকে মহারাজাকে ক্লাবের সঙ্কট মোচনের জন্য সাহায্যের আবেদন জানানো হয়। তবে শর্ত রাখেন কোচবিহারের মহারাজ। জানিয়ে দেন , পরের বছর অর্থাৎ ১৯০৫ সালেও জিততে হবে কোচবিহার কাপ। আবারও কাপ জেতে মোহনবাগান। কাপ নিয়ে যাওয়া হয় মাহারাজার দরবারে। শর্ত মেনে ‘Patron of Mohun Bagan’ হন মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণ। এটা শুধু কাপ জেতা নয়, এটা সম্মান জেতা। আসলে পরপর কোচবিহার কাপ জিতে মোহনবাগান বুঝিয়ে দেয়, এই ক্লাব এসেছে রাজত্ব করতে। পা খালি হলেও, মাথা উঁচু। সেই যাত্রা আজও চলছে। নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে আজ দেশের অন্যতম সেরা ক্লাব সবুজ-মেরুন।
সুপার কাপ ছাড়া সব টুর্নামেন্ট জিতেছে মোহনবাগান
আজ মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। NFL, পরবর্তীকালে আই লিগ, তারপর ফেড কাপ, ডুরান্ড কাপ, আইএফএ শিল্ড সহ শোকেস ভর্তি ট্রফি। সুপার কাপ ছাড়া এমন কোনও ট্রফি নেই যা মোহনবাগান জেতেনি। কিন্তু সব শুরু হয়েছিল কোচবিহারের সেই মাঠ থেকে। অর্থাৎ একদিকে যেমন ১৯১১-র শিল্ড জয় যেমন ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে মোহনবাগানের প্রথম জয় নয়, তেমনই মোহনবাগানের প্রথম স্পন্সর ছিলেন কোচবিহারের রাজা। এই ইতিহাস মোহনবাগান সমর্থকরাও যে খুব ভাল করতে জানেন তেমন নয়।