জেমি ম্যাকলরেন ও সের্জিও লোবেরাইস্টবেঙ্গল যখন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দে আত্মহারা, সেই সময়ই হতাশা মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট শিবিরে। পয়েন্টের বিচারে না হলেও, গোল পার্থক্যের বিচারে শীর্ষে থেকে লিগ শেষ করেছে লাল-হলুদ। তবুও হার তো হারই। স্ট্রাইকারদের ভুরি ভুরি গোল মিস যদি এর অন্যতম কারণ হয়, তবে দায় এড়াতে পারেন কোচ সের্জিও লোবেরা। এর আগেও, ফুটবলারদের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ দেখা গিয়েছে কর্তা থেকে সমর্থকদের মধ্যে। আড় এবার অল্পের জন্য লিগ হাতছাড়া হওয়ার পর কোচের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন সবুজ-মেরুন ক্লাবের সভাপতি দেবাশিস দত্ত।
কোচকে নিয়ে আলোচনা হবে?
ইস্টবেঙ্গল যে সময় অস্কার ব্রুজোকে ধরে রাখতে মরিয়া সেই সময়ই, বোর্ড মিটিং-এ মোহনবাগান কোচ লোবেরার কিছু পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন বলে জানিয়ে দিলেন মোহনবাগান সভাপতি। টানা সাফল্যের পর এই ব্যর্থতা সবুজ-মেরুন সমর্থকদের বিরাট আঘাত দিয়েছে সে কথা বলাই বাহুল্য। দেবাশিস বলেন, 'কোচের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন আছে। তো আমি আমাদের বোর্ডে এই নিয়ে আলোচনা করবো। যে আমার মনে হয় টিম গঠন এবং টিমের অনেক পরিবর্তন দরকার করবে।' এখন প্রশ্ন হল, তা হলে কি কোচ বদলের কথাই বলতে চাইছেন দেবাশিস? সেটা যদিও এখনই স্পষ্ট করেননি মোহনবাগান সভাপতি।
দলের ফুটবলারদের খারাপ পারফরম্যান্স ও স্ট্রাইকারদের গোল মিস নিয়েও মুখ খুলেছেন দেবাশিস। তিনি মনে করেন, 'আমাদের শেষ কয়েকটি ম্যাচে পারফরম্যান্স সন্তোষজনক নয়, এবং জেনারেলি ফরওয়ার্ডরা প্রচুর বলে মিস করেছে, আজকেও প্রচুর বলে মিস করেছে। তো এখান থেকে আমাদের শিক্ষা নিয়ে পরের বছরে আমাদের টিম গঠনের কাজটা ঠিক করে করতে হবে।'
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলকে যদিও অভিনন্দন জানাতে ভোলেননি দেবাশিস। তিনি বলেন, 'প্রথমেই অভিনন্দন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে। তারা এত বছর পর যে আইসিএল চ্যাম্পিয়ন হলো, তার জন্যে আমরা আন্তরিকভাবে মোহনবাগান ক্লাবের তরফ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। এবং বাংলার ফুটবলের জন্য এটা একটা অত্যন্ত ভালো। আমি বারবার বলতাম, চিরকাল বলে এসছি, যে এক আর দুয়ের মধ্যে মোহনবাগানই থাকা উচিত। তো আজকেও দেখা গেল ইস্টবেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন হল, মোহনবাগান রানার্স হল। চ্যাম্পিয়ন হলে ভালো লাগতো।'