শুভাশিস বসু ও আপুইয়া রালতেমাঠের পারফরম্যান্সের পর এবার চোট-আঘাতের সমস্যায় জর্জরিত মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট (Mohun Bagan Super Giant)। গত তিন ম্যাচে পয়েন্ট নষ্ট করে লিগ টেবিলের দৌড়ে এমনিতেই ব্যাকফুটে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। তার উপর বৃহস্পতিবার যুবভারতীর প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে অনুশীলন চলাকালীন চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন দলের মাঝমাঠের অন্যতম প্রধান ভরসা আপুইয়া।
কীভাবে চোট পেলেন আপুইয়া?
বুধবার ছুটির পর বৃহস্পতিবার ফের অনুশীলনে নেমেছিল সের্জিও লোবেরার দল। সেখানেই ঘটে বিপত্তি। অনুশীলন চলাকালীন গুরুতর চোট পান আপুইয়া। প্রাথমিক চিকিৎসার পর পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক ছিল যে, তাকে দু'জন মিলে ধরে ড্রেসিংরুমে নিয়ে যান। পরে মাঠের ঠিক বাইরেই গাড়ি আনা হয় এবং প্রায় কোলে করে তাকে ড্রেসিংরুম থেকে বের করে আনা হয়। এক পায়ে ভর দিয়ে অত্যন্ত কষ্টে তাকে গাড়িতে উঠতে দেখা যায়।
প্রাথমিক অনুমান, আপুইয়ার চোট বেশ গুরুতর। বর্তমানে তাঁর মাসলের অবস্থা এবং চোটের গভীরতা খতিয়ে দেখছেন চিকিৎসকরা। আগামী ১২ এপ্রিল ঘরের মাঠে পঞ্জাব এফসি-র বিরুদ্ধে ম্যাচে তার খেলার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। এমনকি নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে পরবর্তী ম্যাচেও তাঁকে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
চোট পেলেন শুভাশিসও
শুধু আপুইয়া নন, মোহনবাগান সমর্থকদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছেন অধিনায়ক শুভাশিস বোস। অনুশীলনের শুরুতে দলের সঙ্গে থাকলেও পরে অকে সাইডলাইনে দেখা যায়। সূত্রের খবর, খাইয়ে কিছুটা অস্বস্তি অনুভব করছেন তিনি। পাঞ্জাব ম্যাচের আগে দলের রক্ষণভাগের প্রধান স্তম্ভের এই শারীরিক অবস্থা কোচ লোবেরার কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করেছে।
জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধে এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের গোলে পয়েন্ট নষ্ট করতে হয়েছে মোহনবাগানকে। ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে যখন পঞ্জাব এফসি-র বিরুদ্ধে জয় জরুরি, ঠিক তখনই মাঝমাঠ ও রক্ষণের দুই নির্ভরযোগ্য ফুটবলারের চোট দলের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, পঞ্জাব ম্যাচের আগে বিকল্প পরিকল্পনা হিসেবে লোবেরা কী রণকৌশল সাজান।