
এ মরসুমে আক্রান্ত রাজীব রায়, গত মরসুমে আক্রান্ত রিপন মণ্ডলজামশেদপুরে নিজেদের সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সঞ্জীব গোয়েঙ্কাকে চিঠি দিলেন মোহনবাগান সভাপতি দেবাশিস দত্ত। গত শনিবার জামশেদপুর স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় জামশেদপুর সমর্থকদের মার খেয়ে মাথায় ফেটেছে মোহনবাগান সমর্থক রাজীব রায়ের। তাঁর জার্সি ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এবারই প্রথম নয় এর আগেও আক্রান্ত হতে হয়েছে মোহনবাগান সমর্থকদের। তা নিয়েই চিঠি লিখলেন দেবাশিস।
কী লেখা হয়েছে চিঠিতে?
বারবার জামশেদপুরে খেলা দেখতে গিয়ে সমর্থকরা আক্রান্ত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ক্লাব সভাপতি দেবাশিস দত্ত মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের চেয়ারম্যান সঞ্জীব গোয়েঙ্কাকে অনুরোধ করেছেন যেহেতু জামশেদপুর এফসিকে একাধিকবার বলা সত্ত্বেও কোনও প্রকার সুরাহা হয়নি। ফেডারেশনকেও এ ব্যাপারে জানানো হলে, তারা আলাদা স্ট্যান্ড করে দেয়। তবে তাতেও অপ্রীতিকর এই ঘটনা এড়ানো যায়নি। ফলে উদ্বেগ আরও বেড়ে গিয়েছে।

তাই সঞ্জীব গোয়েঙ্কা যেন ফেডারেশনের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করে এই ঘটনার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। প্রয়োজনে যতদিন অ্যাওয়ে দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারছেন জামশেদপুর কর্তারা, ততদিন যেন ওই স্টেডিয়ামে খেলা না দেওয়া হয়, এরকমই অনুরোধ করেছেন মোহনবাগান সভাপতি। ২০২৩ সাল থেকে এই মরসুম পর্যন্ত যে কজন মোহনবাগান সমর্থক জামশেদপুরে খেলা দেখতে গিয়ে আহত হয়েছেন, তাঁদের তথ্য সভাপতি তুলে ধরেছেন মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট চেয়ারম্যানকে পাঠানো চিঠিতে।
গত মরসুমে কী ঘটেছিল?
গত বছর ৪ এপ্রিল জামশেদপুরে মোহনবাগান-জামশেদপুরের খেলা দেখতে গিয়ে হামলার শিকার হতে হয়েছিল একদল মোহনবাগান সমর্থককে। অভিযোগ বাঙালি বলে তাঁদের অপমান করার পাশাপাশি কুরুচিকর মন্তব্য এমনকি মারধর করা হয়। লাঠি নিয়ে তেড়ে আসেন পুলিশকর্মীরা।বাংলা থেকে যাওয়া সমর্থকদের এমনটাই অভিযোগ। আক্রান্ত হন বনগাঁর রিপন মণ্ডল, সৌরভ সরকার ও শিলাজিৎ দাসের মতো একাধিক সমর্থক। সংঘর্ষে কয়েকজনকে হাসপাতালে পর্যন্ত ভর্তি করতে হয়।
সেই সমস্ত সমর্থকদের উৎসাহ দিতে এবং এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে একজোট হ্যেছিলেন মোহনবাগান ফুটবলাররা। তাও এ মরসুমেও এমন ঘটনা এড়ানো গেল না। ফের আক্রান্ত সমর্থক। এখন মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কা ফুটবল ফেডারেশনের কাছে এ ব্যাপারে কিছু জানান কিনা বা পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় সেদিকে তাকিয়ে মোহনবাগান সমর্থকরা।