মোহনবাগান সুপার জায়েন্টওড়িশা এফসি-র বিরুদ্ধে ম্যাচে গোটা স্টেডিয়াম পাবে না মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট। তবে এর মধ্যেও দারুণ খবর সমর্থকদের জন্য। আন্তর্জাতিক মহিলা দিবস উপলক্ষে আসন্ন মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট বনাম ওড়িশা ম্যাচের সাধারণ গ্যালারির টিকিট বিনামূল্যে পাবেন সমর্থকেরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় হোলি ও দোলের শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট করলেন কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কা।
প্রত্যেক সমর্থককে দুটি করে টিকিট দেওয়া হবে৷ প্রসঙ্গত, ক্লাবের তরফে ফেডারেশনকে পুনর্বিবেচনার দাবি জানানোর পর সমর্থকদের জন্য অর্ধেক গ্যালারি অনুমোদিত করেছে ফেডারেশন।
কেন শাস্তির মুখে মোহনবাগান?
কারণ হিসাবে দেখানো হয়েছিল, কেরল ম্যাচে হোম দলের গ্যালারি থেকে আতশবাজি উড়ে এসেছিল। পাশাপাশি আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছিল মোহনবাগানকে। আর্থিক জরিমানার বিষয়টি মেনে নিলেও মোহনবাগান কর্তারা ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন ফেডারেশনের এই সিদ্ধান্তে। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। রাতে সেই চাপের মুখেই সিদ্ধান্ত বদল করে জানানো হল পুরো স্টেডিয়াম খালি নয়, শুক্রবার আংশিক স্টেডিয়াম খালি থাকবে মোহনবাগান-ওড়িশা ম্যাচে। এদিন মোহনবাগানের তরফে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আবেদন করা হয়েছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতেই রাতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
খালি স্টেডিয়ামে ম্যাচ খেলতে হবে জানার পর থেকেই মোহনবাগান সচিব সৃঞ্জয় বসু ও সভাপতি দেবাশিস দত্ত সরাসরি ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন ফেডারেশন কর্তাদের উপর। পাশাপাশি এই ম্যাচে মাঠে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাঁরা। রাতে ফেডারেশনের এই সিদ্ধান্ত বদলের পর দেবাশিস দত্ত জানান, 'ফেডারেশন যখন নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসে ১৮-২০ হাজার দর্শক ঢোকার অনুমতি দিয়েছে, সেই দিক থেকে দেখেই আমরা নিজেদের সিদ্ধান্ত পুর্নবিবেচনা করে মাঠে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে আরও আলোচনা চলছে সচিব সহ কর্মসমিতির অন্যদের সঙ্গে।' আনোয়ারের সিদ্ধান্ত কেন এত দিন ধরে নেওয়া যায়নি, সেই প্রশ্নও তুলেছিলেন মোহনবাগান সচিব সৃঞ্জয় বসু। দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছিলেন, যে দেশে ফুটবলে দর্শক আসতেই চায় না। সেখানে এমন দর্শকশূন্য করার সিদ্ধান্ত যথেষ্টই হঠকারী। এমন পরিস্থিতিতে সমর্থকদের কালো ব্যাজ পড়ে শুক্রবার প্রতিবাদ জানাতে আহবাণ করেছিলেন সৃঞ্জয় বসু। এদিন রাতে আরও বলেন, 'সিদ্ধান্ত জানতে পেরেছি। সভাপতি ও কর্মসমিতির সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছে আমাদের। শীঘ্রই আমরা তা জানাব।'
এদিন বিকালে ফেডারেশনের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছিল, গত মরসুমে ১২ এপ্রিল বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ম্যাচে এই যুবভারতীতেই আতসবাজিতে আহত হওয়ার রিপোর্ট জমা পড়েছিল তাদের কাছে। সেই ম্যাচে বেঙ্গালুরু কর্ণধার পার্থ জিন্দালের গায়েও পড়েছিল আতশ বাজির টুকরো। তারপরই শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। তাদের তরফ থেকে বলা হয়েছিল, আগামী এক বছরের মধ্যে যদি আবার মোহনবাগানের হোম ম্যাচে এমন ঘটনা ঘটে তাহলে, একটি হোম ম্যাচ তাদের দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে খেলতে হবে। এই মরসুমের আইএসএলের উদ্বোধনী কেরালা ব্লাস্টার্স ম্যাচে যুবভারতীর গ্যালারিতে আতসবাজি পোড়ানোর বিষয়টি খোঁজ পায় ফেডারেশন। তারপরই খালি স্টেডিয়ামে ওড়িশা ম্যাচ খেলার নির্দেশ দেওয়া হয় মোহনবাগানকে। মোহনবাগান সমর্থকদের কাছে স্বস্তির বিষয় শুক্রবার খালি মাঠে ম্যাচ খেলতে হবে না ম্যাকলারেনদের।