জোড়া পেনাল্টি বাঁচিয়ে মোহনবাগানকে ফাইনালে তুললেন গোলরক্ষকMohun Bagan vs Punjab FC: ১২০ মিনিটেও কোনও সমাধান হল না। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর তাই দায়িত্ব গিয়ে পড়ল গোলরক্ষকদেরই কাঁধে। আর সেখানেই আরও একবার ঝলসে উঠলেন বিশাল কাইথ। টাইব্রেকারে পর পর দু’টি পেনাল্টি আটকে মোহনবাগানকে আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে তুলে দিলেন তিনি।
পঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতেছে মোহনবাগান। নির্ধারিত সময় এবং অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ম্যাচে একটিও গোল হয়নি। ৮৫ মিনিটে শুভাশিস বসু জালে বল পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু অফসাইডের কারণে সেই গোলও টেকেনি।
শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারেই ঠিক হয় ম্যাচের ভাগ্য। শুরুতে দুই দলই নিজেদের প্রথম দু’টি শটে গোল করে। পঞ্জাবের মেসিবৌলি ও অর্শবীর সিংহ গোল করেন। মোহনবাগানের হয়ে সফল রাহুল ভেকে এবং শুভাশিস।
এর পরই ম্যাচের মোড় ঘোরান বিশাল। পঞ্জাবের তৃতীয় শট নিতে এসে শাইজ়া তাঁকে পরাস্ত করতে পারেননি। চতুর্থ শটেও একই ছবি। বিশাল যাদবের নেওয়া বলও আটকে দেন মোহনবাগানের গোলরক্ষক। মাঝে বাগানের হয়ে আলবের্তো রদ্রিগেজ় গোল করেন।
চতুর্থ শটে দেজান দ্রাজিচ গোল করতে পারলে তখনই ম্যাচ শেষ হয়ে যেত। কিন্তু তাঁর শট বাঁচিয়ে দেন পঞ্জাবের পরিবর্ত গোলরক্ষক মুহিত শাবির। ফলে লড়াই আরও এগোয়। পঞ্জাবের পঞ্চম শটে ঋষিকান্ত গোল করেন। শেষ পর্যন্ত বাগানের হয়ে মিগুয়েল ফিগুয়েরা দায়িত্ব নেন। কয়েক দিন আগেই নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে পেনাল্টি নষ্ট করেছিলেন তিনি। এ বার আর ভুল করেননি। গোল করে দলকে ফাইনালে পৌঁছে দেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল সতর্ক ছিল। আক্রমণের চেয়ে রক্ষণ সামলানোর দিকেই বেশি নজর ছিল। ৮ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় আশিস রাইকে। তাঁর জায়গায় নামেন অভিষেক সূর্যবংশী।
প্রথমার্ধে দু’দলই গোলের সুযোগ পেয়েছিল। লি ইরউইনের ফ্রি কিক পোস্টে লেগে বাইরে যায়। ৩৭ মিনিটে বিশুর শটও রুখে দেন বিশাল। পরের মিনিটে লালিয়ানজুয়ালা ছাংতের ভলি অর্শদীপ সিংহের হাতে জমা পড়ে।
বিরতির পর মিগুয়েলকে মাঠে নামান মোহনবাগান কোচ পানাজিয়োটিস দিমপেরিস। তাতেও গোলের দরজা খোলেনি। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়েও একই ছবি। সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুহেল ভাট নামলেও জয়সূচক গোল এল না।
তার পর টাইব্রেকার। আর সেখানেই আবার নিজের পরিচয় দিলেন বিশাল কাইথ।
মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে যুবভারতীতে ব্রাজ়িলের বিরুদ্ধে ভারতের গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিংহ সঁধু দু’টি গোল হজম করেছিলেন। ভারতীয় দলে বিশাল জায়গা পাননি। কিন্তু মোহনবাগানের হয়ে ফের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁর হাতেই এল সাফল্য। পেনাল্টি বাঁচিয়ে আরও এক বার নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিলেন তিনি।