কিলিয়ান এমবাপেস্পেনের কাছে ০-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে ফ্রান্স। প্রত্যাশার চাপ ছিল গতবারের রানার্সদের উপর। কিলিয়ান এমবাপে, মাইকেল ওলিসে বা উসমান ডেম্বেলেরা যে দাপট দেখিয়েছেন এবারের বিশ্বকাপে তা অতুলনীয়। সেই কারণেই ফ্রান্সের উপর অনেকেই ভরসা করেছিলেন। তবে সেই ভরসায় জল ঢেলে দিল স্পেন। বারবার ডেম্বেলে-এমবাপেরা আটকে গেলেন। যে কাউন্টার অ্যাটাক ফ্রান্সের অস্ত্র ছিল, সেটাও ভোঁতা বলে মনে হল শালাসের মাঠে।
১. আক্রমণভাগের ব্যর্থতা ও গোল খরা
ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান ডেম্বেলে এবং মাইকেল ওলিসের মতো তারকা খচিত আক্রমণভাগ স্পেনের রক্ষণ ভাঙতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলা এমবাপে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্প্যানিশ ডিফেন্ডারদের কড়া পাহারায় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি।
২. মাঝমাঠে স্পেনের পাসিং ও বল দখলের আধিপত্য
স্পেনের গতিময় মিডফিল্ড এবং তিকিতাকা পাসিং কৌশলের কাছে ফ্রান্সের মাঝমাঠ পাত্তাই পায়নি। স্পেন পুরো ম্যাচজুড়ে বলের নিয়ন্ত্রণ (Possession) নিজেদের কাছে রেখে ফ্রান্সকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়, যার ফলে ফরাসিরা নিজেদের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক খেলাটি গুছিয়ে উঠতে পারেনি।
৩. উইলিয়াম সালিবার ইনজুরি
ম্যাচের ৩০তম মিনিটে ফ্রান্সের রক্ষণভাগের মূল স্তম্ভ উইলিয়াম সালিবা আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন। প্রথমার্ধের শুরুতেই তাঁর মতো একজন বিশ্বমানের সেন্টার ব্যাককে হারানো ফ্রান্সের রক্ষণভাগকে দুর্বল করে দেয় এবং কোচ দিদিয়ে দেশঁ সমস্ত পরিকল্পনা এলোমেলো হয়ে যায়।
৪. স্পেনের জমাট রক্ষণ ও গোলরক্ষকের দক্ষতা
চলতি বিশ্বকাপে স্পেন মাত্র একটি গোল হজম করেছে। সেমিফাইনালের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচেও স্প্যানিশ ডিফেন্ডাররা ও পেদ্রো পোরো চমৎকার পারফর্ম করে ফরাসি স্ট্রাইকারদের প্রতিটি আক্রমণ নসাৎ করে দেন। ফলে পুরো ম্যাচে ফ্রান্সকে তারা কোনো গোল করার সুযোগই দেয়নি।
৫. প্রথমার্ধের পেনাল্টি ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ
ম্যাচের ২১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে স্পেনের মিকেল ওইয়ারজাবাল গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে ফ্রান্স কখনো প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচ জিতে ফিরতে পারেনি। এই গোলটি তাদের ওপর ব্যাপক মানসিক চাপ তৈরি করে, যা পরবর্তীতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি স্পেনের হাতে তুলে দেয়