ফাইল ছবি (PTI)তারকার অভাব ছিল না মোহনবাগান দলে। বিপরীতে ইস্টবেঙ্গল নামিয়েছিল দ্বিতীয় সারির দল। তবু বারাসত স্টেডিয়ামে কলকাতা ফুটবল লিগের হাইভোল্টেজ ডার্বিতে জয় এল না সবুজ-মেরুনের। সোমবারের ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র করল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। মোহনবাগানের হয়ে গোল করেন মনবীর সিং। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে সমতা ফেরান পরিবর্ত হিসেবে নামা মহম্মদ বিলাল।
বরং ম্যাচের শেষ দিকে তিন পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়ার সুযোগ ছিল ইস্টবেঙ্গলের কাছেই। একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোলের সামনে আরও একটু নিখুঁত হতে পারলে ম্যাচ জিতেই মাঠ ছাড়তে পারত লাল-হলুদ।
দুই দলই আগেই কলকাতা লিগের সুপার সিক্সে জায়গা করে নিয়েছিল। ফলে ম্যাচের ফলাফল নিয়ে বড় কোনও চাপ ছিল না। কিন্তু ডুরান্ড কাপ ফাইনালে হারের বদলা নেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছিল এই ডার্বিকে। সেই ম্যাচে মোহনবাগানের সেই লক্ষ্য পূরণ হল না। বিজয় মুর্মু এবং চাকু মান্ডির নেতৃত্বে ইস্টবেঙ্গলের দাপুটে ফুটবল বারবার সমস্যায় ফেলল সবুজ-মেরুনকে।
ড্রয়ের পর ১১ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে শেষ করল ইস্টবেঙ্গল। গোলপার্থক্যে তারা পিছনে ফেলল ভবানীপুরকে। ১১ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে মোহনবাগান।
তারকাদের নিয়েও নামল মোহনবাগান
ইস্টবেঙ্গল এদিন প্রথম দলের কোনও ফুটবলারকে খেলায়নি। জয় বাজ, চাকু মান্ডি এবং আকাশ হেমব্রমদের ভরসাতেই দল সাজিয়েছিল তারা। অন্যদিকে মোহনবাগানের প্রথম একাদশে ছিলেন একাধিক নিয়মিত ফুটবলার। মেহতাব সিং, রাহুল ভেকে, শুভাশিস বসু, আপুইয়া, সাহাল আবদুল সামাদ এবং মনবীর সিং শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ছিল মোহনবাগানের হাতে। বাঁ দিক থেকে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় ভিতরে ঢুকে আক্রমণ তৈরির চেষ্টা করেন। তবে ইস্টবেঙ্গলের জমাট রক্ষণ সেই আক্রমণ সামলে নেয়।
৬০ শতাংশের বেশি বলের দখল থাকলেও ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না মোহনবাগান। পাল্টা আক্রমণের সুযোগের অপেক্ষায় ছিল লাল-হলুদ। ৩৬ মিনিটে মনবীরের চেষ্টা আটকে দেন ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষক গৌরব সাউ। সামনে এগিয়ে যাওয়া কিয়ান নাসিরিও বলের নাগাল পাননি।
এগিয়ে গেল মোহনবাগান
৩৮ মিনিটে শেষ পর্যন্ত গোলের মুখ খোলে। লম্বা বল ধরে এগিয়ে আসেন মনবীর। তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করেন ইস্টবেঙ্গলের অঙ্কন ভট্টাচার্য। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জ সামলে গোলের দিকে এগিয়ে যান মোহনবাগান ফরওয়ার্ড।
গৌরব সাউ গোল ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অঙ্কনের পায়ের ফাঁক দিয়ে শট নেন মনবীর। বল সোজা জালে। ১-০ এগিয়ে যায় মোহনবাগান।
বিরতির আগেই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ ছিল সবুজ-মেরুনের। সায়নের পাস থেকে সাহালের শট ডিফ্লেক্ট হয়ে কর্নারের জন্য চলে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলে গেল ছবি
৫৩ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন মনোতোষ। তাঁর জায়গায় নামেন মহম্মদ বিলাল। বিলাল মাঠে আসতেই ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণে গতি বাড়ে। পরপর দু’টি গোলের সুযোগ তৈরি করে লাল-হলুদ। কিন্তু কোনওটিই কাজে লাগাতে পারেনি তারা।
৫৬ মিনিটে মেহতাব সিং এবং দীপ্রব্রত ঘোষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝিতে মোহনবাগানের গোলমুখ কার্যত ফাঁকা হয়ে যায়। কিন্তু আকাশ হেমব্রহ্ম কিছুটা সময় নেওয়ায় ফিরে আসার সুযোগ পান মেহতাব। গোললাইন থেকেই বল সরিয়ে দেন তিনি। তবে ইস্টবেঙ্গলের চাপ থামেনি। শেষ পর্যন্ত সেই চাপ থেকেই আসে সমতা ফেরানোর গোল। বিজয় মুর্মুর নেওয়া কর্নার থেকে হেড করে বল জালে জড়িয়ে দেন বিলাল। ১-১। ম্যাচে ফেরে ইস্টবেঙ্গল।
গোলের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে লাল-হলুদ। মোহনবাগানের উপর চাপ বাড়াতে থাকে তারা। পরে জয় বাজের ক্রস থেকেও গোলের সুযোগ পান বিলাল। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত আর কোনও গোল হয়নি। তারকাখচিত মোহনবাগানকে আটকে দিয়ে ১-১ গোলে ড্র করেই মাঠ ছাড়ল ইস্টবেঙ্গলের দ্বিতীয় সারির দল।