প্রয়াত টুটু বসুআশঙ্কা সত্যি হল। ভারতীয় ক্রীড়াপ্রশাসনের জগতে নক্ষত্র পতন। প্রয়াত মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি স্বপনসাধন বসু, ওরফে টুটু বসু। মঙ্গলবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কলকাতা ময়দানের এই ডাকাবুকো কর্তা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন টুটু বসু। তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল দক্ষিণ কলকাতার একটি হাসপাতালে। সেখানে ভেন্টিলেশনে ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার তাঁকে হাসপাতালে দেখতে যান রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামানিকও। এছাড়াও, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও টুটুবাবুর খোঁজ নিয়েছিলেন। তবে, মঙ্গলবার রাত ১২টা প্রয়াত হন মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি।
জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল ৮ টায় তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে তাঁর বালিগঞ্জের বাসভবনে। সেখান থেকে খিদিরপুর ক্লাব, ভবানীপুর ক্লাব হয়ে মোহনবাগান ক্লাবে। সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ মোহনবাগানে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য জানানো হবে। দুপুর ২.৩০ মিনিট পর্যন্ত ক্লাবেই থাকবে মরদেহ। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শেষকৃত্য হবে টুটু বসুর। পরিবারের তরফে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
মোহনবাগান ক্লাবের ইতিহাসে টুটু বসু এক বিরাট অধ্যায়। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ পর্যন্ত সচিব, তারপর ১৯৯৫ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন টুটু বসু। মাঝে অঞ্জন মিত্রের সঙ্গে তাঁর ‘জুটি’ ময়দানের মিথ হয়ে আছে। ২০১৮ সালে তিনি ফের সচিব পদে ফেরেন। যদিও সাম্প্রতিক নির্বাচনে তিনি সরে দাঁড়িয়েছিলেন। বর্তমানে কোনও আনুষ্ঠানিক পদে থাকেননি।
মোহনবাগানকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। শুধু মোহনবাগান নয়, ময়দানের সব ক্লাবের সমর্থকরাই তাঁকে দেখতেন শ্রদ্ধা ও সম্মানের চোখে। তাই এমন একজন ক্রীড়া প্রশাসকের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে ক্রীড়াপ্রেমী বাঙালির হৃদয়ে।