ভারতের মহিলা দলপ্রথমে অস্ট্রেলিয়া আর তারপর জাপানের বিরুদ্ধেও হার। মনে করা হচ্ছিল, অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েদের এশিয়ান কাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আশা ছেড়েই দিতে হবে ভারতের মেয়েদের। তবে শুক্রবার লেবাননের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জিতে ইতিহাস যেমন হল, তেমনই অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলা বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগও বাড়ল। এর আগে ভারতের কোনও মহিলা দল এশিয়া কাপের নক আউটে যেতে পারেনি।
সমীকরণ পরিষ্কার ছিল। শুধু জিতলেই হবে না, বড় ব্যবধানে জিততে হবে। পামেলা কন্টির দল ঠিক সেটাই করল। জোড়া গোলে স্পটলাইটে প্রীতিকা বর্মন, একটি করে গোল করেন আলভা দেবী সেনজাম ও জয়া। তিন ম্যাচ শেষে ভারতের গোল পার্থক্য পুরো ছবিটা বদলে দিয়েছে। আর গ্রুপ পর্বের শুরুতে মহাদেশীয় পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলা জাতীয় ফুটবল দল এবং জাপান অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলা জাতীয় ফুটবল দলের কাছে হারের পর, ভারতের অভিযানটা হঠাৎ করেই খুব অন্যরকম লাগছে।
নিজেদের সমপর্যায়ের একটি দলের বিপক্ষে ভারত অনেক বেশি আক্রমণাত্মক স্বাধীনতা নিয়ে খেলেছে এবং এর পার্থক্যটা সঙ্গে সঙ্গেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যে মেয়েরা প্রথম দুটি ম্যাচের বেশিরভাগ সময় রক্ষণাত্মক অবস্থানে কাটিয়েছিল, হঠাৎ করেই তাদের বল নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে, আরও উঁচুতে উঠে চাপ সৃষ্টি করতে এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছিল।
কীভাবে কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে পারবে ভারত?
আপাতত ভারতের গোল পার্থক্য -১। অন্যদিকে ফিলিপিন্সের -১৩ এবং চিনা তাইপের -১৪। অর্থাৎ, ওই ম্যাচে ১২ গোল বা তার বেশি ব্যবধানে কেউ জিততে না পারলে ভারতই সেরা তৃতীয় দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে (AFC Asian Cup)। ২১ বছর পর এশিয়ান কাপে খেলতে এসে দেশের মেয়েরা এখন শেষ আটের সামনে দাঁড়িয়ে। যোগ্যতা অর্জন নিশ্চিত হলে ১১ মে কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ চিন। আর সেখানেই লুকিয়ে আরও বড় গল্প।
বিশ্বকাপে কীভাবে যেতে পারে ভারত?
এই এশিয়ান কাপ থেকেই ২০২৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলা বিশ্বকাপের যোগ্যতা নির্ধারণ হবে। নিয়ম বলছে, সেমিফাইনালে উঠতে পারলে বিশ্বকাপ নিশ্চিত। অর্থাৎ, ভারত যদি সম্ভাব্য কোয়ার্টার ফাইনালে চিনকে হারাতে পারে, তাহলে প্রথমবার পৌঁছে যাবে অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলা বিশ্বকাপে। ভারতীয় মহিলা ফুটবলে গত এক বছরে উন্নতির ইঙ্গিত মিলছিল ঠিকই, কিন্তু এই বয়সভিত্তিক দল সত্যিই ইতিহাস লেখার সামনে দাঁড়িয়ে, বোঝা যায়নি এতটুকু ।
অবশ্য তার আগে অপেক্ষা আছে। হিসেব আছে। অন্য ম্যাচের ফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। কিন্তু শুক্রবারের পর অন্তত এটুকু পরিষ্কার—এই ভারতীয় টিম আর শুধু অংশ নিতে আসেনি। এসেছে বিশ্বকাপের টিকিট পাকা করতে।